জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষকের অভাবে সরকারি কিয়ামত উল্ল্যাহ (কেইউ কলেজ) কলেজে আট বিষয় পাঠদান হচ্ছেনা। যে কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবস্থা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে একাদশ, দ্বাদশ ও স্নাতক পাশ কোর্সে ২৮৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। অধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে ২৩টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র আটজন। এদের মধ্যে বাংলা বিভাগে দুইজন, ইসলামের ইতিহাস, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, দর্শন ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে একজন করে শিক্ষক রয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। রসায়ন, পদার্থ, গণিত, জীব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, কৃষি বিজ্ঞান এবং আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৫ জন শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যক্ষ অধিকাংশ সময় অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকেন। নানা কাজে ২/১ জন শিক্ষক ছুটিতে বা সরকারি-বেসরকারি কাজে কলেজে অনুপস্থিত থাকেন। তাই গড়ে প্রতিদিন ৪/৫ জনের বেশি শিক্ষক ক্লাস নিতে পারেন না।
এছাড়া যে সকল বিষয়ে শিক্ষক আছে তারাও পেশায় নতুন। অধিকাংশ শিক্ষকের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই। যে কারণে এ অঞ্চলের প্রাচীনতম উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠ বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্ল্যাহ (কে.ইউ কলেজ) কলেজে গুণগত পাঠদান নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পরিতোষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদের ডিও লেটার নিয়ে শিক্ষকের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডিজির কাছে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাড়া মিলেনি। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সিনিয়র নেতারাও বিষয়টি জানেন।’
জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক সমস্যা সমাধানের বিষয়টি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামী বিসিএস পরীক্ষা শেষ হলে শিক্ষক পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৮৭ সালে কলেজটি এরশাদ সরকার জাতীয়করণ করেন।
ইত্তেফাক/সালেহ্