কুষ্টিয়ার শিশু মোহনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত

কুষ্টিয়া মিরপুরের আলোচিত শিশুকন্যা মোহনা (৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা গেছে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে উৎঘাটন করতে পেরেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই জালাল উদ্দিন খাঁন।

৫ এপ্রিল বিকালে উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের মালিহাদ নতুন পাড়ার মকলেছের কথিত কন্যা মোহনাকে বিষ মিশ্রিত পাউরুটি খাইয়ে হত্যা করা হয়। ৬ মার্চ দুপুরে অবুঝ শিশু মোহনার মরদেহের ময়না তদন্ত হয় কুষ্টিয়া জেনারেল  হাসপাতালে।

অন্যদিকে একইদিন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিতে আদালতে তোলা হয় হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দিগ্ধ আটক বিলকিছ খাতুন ওরফে বিউটি (৩৫) কে। বিলকিছের দেয়া জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাতেই মোহনার মা সোহাগী খাতুন বিলকিছসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-২। তাং ০৬/০৩/২০১৭ ইং। একমাত্র বিলকিছ আটক হলেও বাকি ৪ আসামি পলাতক রয়েছে।

যে কারণে শিশু মোহনাকে হত্যা করা হয়ঃ
নিহত শিশু মোহনার মায়ের নাম  সোহাগী খাতুন (২৭)। হতদরিদ্র ঘরে জন্ম নিলেও কয়েক বছর আগে এক প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় সোহাগীর। মেহেদির রং না মুছতেই প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে বিদেশ থাকাবস্থায় তার স্বামী মারা যায়। নাম ওঠে হতভাগীর খাতায়। কিছুদিন পর ফিরে আসতে হয় আবার পিতার বাড়ি মালিহাদ নতুন পাড়ায়।

ফিরে আসার পর পার্শ্ববর্তি ইংরাজের ছেলে মখলেছের সঙ্গে সোহাগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিবাহের প্রলোভন দিয়ে মকলেছ সোহাগীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই সম্পর্কের জেরে গত ৪ বৎসর পূর্বে অবাঞ্ছিতভাবে মোহনার জন্ম হয়। মোহনাকে সন্তান হিসাবে পরিচয় দিতে আপত্তি জানায় মকলেছ। বিচারের দাবি তোলে হতভাগী সোহাগী।

শেষ পর্যন্ত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ দমন আইনে মামলা হয়। উক্ত মামলায় খালাশ পায় মকলেছ। মামলা থেকে রেহায় পাবার পর আবারও সোহাগীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক চলাকালে এলাকাবাসীর হাতে নাতে ধরা পড়ে মোখলেছ। পুর্বের মামলার সূত্রে সন্তানের সঠিক পরিচয়ের জন্য আদালতের র্নিদেশে ডিএনএ পরিক্ষায় মোখলেছের সন্তান মোহনা প্রমাণীত হয়। পিতৃপরিচয় পায় মোহনা।

মামলাটি বিচারাধীন। এরমধ্যে কাটে ৩ বৎসর ৬ মাস। মকলেছ পরিবারের সম্মানের বাধা মোহনা। সে কারনে শুরু হয় মোহনাকে পৃথিবী থেকে সরানোর পরিকল্পনা।

এক পর্যায়ে ঘটনার বেশ কিছুদিন পূর্বে মকলেছের পিতা ইংরাজের পরকিয়ার প্রেমিকা সোহাগীর দুরসম্পর্কের বোন বিলকিছকে অর্থের লোভ দেখিয়ে মোহনা হত্যার দিনক্ষন ঠিক করা হয়।

ঘটনার দিন বেলা ১২ টার দিকে নদি(৪) ও মহোনা (৪) বাড়ির পাশে রাস্তায় খেলা করছিল। এ সময় বিলকিছ পাউরুটির মধো বিষ দিয়ে খেতে দেয় মোহনাকে। অবুঝ মোহনা খালা বিলকিসের দেওয়া পাউরুটি খেয়ে ১ ঘন্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে অবুঝ মোহনা খালা বিলকিসের দেওয়া পাউরুটি খেয়েই মারা গেছে বলে ধারণা করছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

ইত্তেফাক/নূহু