জেলায় মীর্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে অবৈধ কয়লার ভাটায় অবাধে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। এর ফলে উজার হচ্ছে বনাঞ্চল। অন্যদিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কয়লার ভাটার নির্গত ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে উপজেলা পরিষদের অদূরে পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে এ কয়লার ভাটা নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণের প্রথম দিকে বিশাল আকৃতির তিনটি চুলা বসানো হলেও দিনে দিনে কয়লার ভাটাটি আরো সম্প্রসারিত করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে পাঁচটি চুলা বসানো হয়েছে। এসব চুলায় প্রতিদিন শতশত মণ কাঠ পোড়ানো হয়।
এই কয়লার ভাটা নির্মাণ করে কাঠ পোড়ানোর ফলে যেমনি বনাঞ্চল উজার হচ্ছে, তেমনি এলাকার মানুষ শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহসহ নানা রোগে ভুগছেন। কয়লার ভাটা সংলগ্ন রয়েছে পশ্চিম সুবিদখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ কয়লার ভাটার নির্গত ধোঁয়ায় পড়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। কিন্তু কয়লার ভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
ভাটার মালিক মো. মোশারেফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিবেশের কিছুটা ক্ষতি হলেও খুলনাসহ বেশ কিছু জায়গায় এ ধরনের কয়লা তৈরির চুলা রয়েছে। এসব উত্পাদিত কয়লার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয়। এদিকে ফসলি জমি রক্ষার্থে পরিবেশ বিনষ্টকারী এই কয়লার ভাটাটি উচ্ছেদের জন্য এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
মীর্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মো. রফিকুল ইসলামের সাথে এ বিষয় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে আলাপ করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, বরিশাল বিভাগের কোথাও কাঠ পুড়ে কয়লার ভাটা স্থাপনের জন্য কাউকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
ইত্তেফাক/নূহু