গুণী অভিনেতা ও নির্মাতা নাদের চৌধুরী। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও রেখেছেন তার মুন্সিয়ানার ছাপ। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। নতুন এই চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বড়পর্দা ও ছোটপর্দা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গ বলুন—
এটি আমার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করি তখন প্রচণ্ড উত্তেজনা ছিল, ভয় ছিল তার চেয়েও বেশি। এরপর সেই ভয়টা কেটে গেছে। নতুন এক অনুভূতি কাজ করছে মনের ভেতর। কারণ প্রথমবারের ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে আরো ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা ছিল। যেহেতু এটা আমার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র, তাই নির্মাণে কোনো কার্পণ্য করিনি। ছবির গল্প অনুযায়ী আমি চেষ্টা করেছি সামাজিক ও বিনোদনধর্মী একটি চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দিতে। বাকিটা মুক্তির পর দর্শকদের ওপর নির্ভর করছে।
চলচ্চিত্রের প্রচারণার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে এই চর্চাটি বিচ্ছিন্নভাবে হলেও শুরু হয়েছে। আপনার এই চলচ্চিত্রটির প্রচারণা নিয়ে কতটা ভেবেছেন?
চলচ্চিত্রটি চাইলে আমরা ১০০টিরও বেশি হলে মুক্তি দিতে পারতাম। কিন্তু প্রযোজক এবং আমি নিজে প্রথম দিকে এতগুলো হলে একসাথে মুক্তি দিতে চাচ্ছি না। চলচ্চিত্র নিয়ে আমরা প্রচার-প্রচারণা ঠিকই করছি, কিন্তু বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রগুলোর মতো হয়তো নজরে পড়ছে না। আমি প্রচার-প্রচারণায় বিশ্বাসী নই, দর্শক হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখলেই আমি খুশি। দেশের অনেক চলচ্চিত্র লাইমলাইটে থেকেও বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারেনি।
চলচ্চিত্রের অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
চলচ্চিত্র ডিজিটাল হচ্ছে, মেধাসম্পন্ন নতুন নতুন মুখ আসছে এটা আশার সঞ্চার করে। যদিও চলচ্চিত্রে এলোমেলো কিছু হচ্ছে, একপর্যায়ে স্থির জায়গায় আসবে। নারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণে আসছে এটা কম কথা নয়। সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকেও কিছু কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে চলচ্চিত্র উন্নয়নের জন্য। আমাদের দর্শক অনেক। দেশীয় সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে পূর্বেও বিখ্যাত অনেক চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে এবং এগুলো ব্যবসাসফলও হয়েছে। আমাদের উচিত বিদেশি ছবি নকল না করে দেশীয় সংস্কৃতি মাখানো ছবি তৈরি করা। যেটা দর্শক চান। যে ছবি জীবনের কথা বলে, মাটির কথা বলে সেই ধরনের চলচ্চিত্র তৈরি করলে দর্শক কষ্ট করেও হলে ছবি দেখতে আসবেন।
ছোটপর্দার অনেককিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনগুলো নতুন করে কাজ শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে জানতে চাই—
সংগঠনগুলো তৈরি হয় ইতিবাচক কোনো প্রভাব বিস্তারের কারণেই। যে সংগঠনগুলো এখন কাজ করছে তাদের উদ্দেশ্যও এমনটাই। আমি সব সংগঠনের উদ্দেশ্যে বলবো, সবার আগে একতাবদ্ধ থাকা জরুরি। তারপর জরুরি নিজেদের সঠিক দাবি শনাক্ত করা।
চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রায়ই বাজেট, গল্প আর হল সঙ্কট নিয়ে অভিযোগ ওঠে। আসলে আমাদের চলচ্চিত্রের সঙ্কটের জায়গা কি শুধু হল, বাজেট আর গল্পকে ঘিরেই মনে করেন?
সবার আগে আমি মনে করি আমাদের ভালো সিনেমার সঙ্কট। একটি বিষয় খেয়াল করবেন আমাদের ভালো ভালো পরিচালক সিনেমা নির্মাণ থেকে সরে গেছেন, সরে গেছে লগ্নিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও। কারণ একটা ভালো সিনেমা উঠে আসছে না। ভালো চলচ্চিত্র না হলে হল মালিকরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়াটাই স্বাভাবিক। বছরের পর বছর কেউই নিজের লোকসান চায় না। আমি খুব অবাক হই যারা আমাদের সিনেমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন
তারাই তো সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসছেন না। যত কিছুই হোক আমাদের শিল্প এবং সংস্কৃতির বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে।
ইত্তেফাক/আনিসুর