মানিকগঞ্জের শিবালয় ও ঘিওর উপজেলা থেকে নিখোঁজের একদিন পর দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৫জনকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য, শিবালয় উপজেলার নেহালপুর গ্রামের বাসু শেখের ছেলে সাব্বির হোসেনের (৮) মৃতদেহ শুক্রবার সকালে উদ্ধার করা হয় আরিচা ঘাটের কাছে যমুনা নদীর চর থেকে। আগের দিন বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। মৃতদেহ উদ্ধারের পর সাব্বিরের দাদী আয়শা বেগম প্রতিবেশী ইব্রাহিম ও ঝন্টুকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। এরা দুজনে আপন ভাই।
বাসু শেখ জানান, তাদের জমিতে ঘর তুলতে ইব্রাহিমদের বাঁধা দিলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জের ধরে কিছুদিন আগে ইব্রাহিমরা মারধর করে বাসু শেখের মা ও বোনকে। এ ঘটনায় শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। তখন থেকে ইব্রাহিমরা হুমকি দিয়ে আসছিল।
থানায় অভিযোগ করার কারনেই তার একমাত্র ছেলে সাব্বিরকে আসামীরা হত্যা করে যমুনার বালুর চরে চাপা দিয়ে রেখেছিল।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধারের দিনই ইব্রাহিম ও ঝন্টুকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এদিকে ঘিওর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে দুরন্ত (৭) নিখোঁজ হয় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে। পরের দিন শুক্রবার গলায় কাপড় পেঁচানো দুরন্তের মৃতদেহ পাওয়া যায় বাড়ির পিছনে একটি বাঁশঝাড় থেকে।
শহীদুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে প্রতিবেশী ইউসুফ আহম্মদের সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরেই তার ছেলে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুরন্তর নানা ইউসুফ আলী বাদি হয়ে ঘিওর থানায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শিশু দুরন্ত হত্যার ঘটনায় আনোয়ার হোসেন, চায়না ও পলি নামের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু