শ্বশুরের সম্পত্তি পাওয়ার লোভে তার একমাত্র শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে মেয়ে জামাই সাহেব আলী ও মোহাম্মদ মুকুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। তবে এই মামলার অপর আসামী মো. রাসেলকে যাবজ্জীবন সাজা হ্রাস করে ১৪ বছরের দণ্ড দিয়েছে আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে আজ রবিবার এ রায় দেয়।
২০১০ সালের ২৬শে এপ্রিল রাজশাহীর মোহনপুরের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান ওলিকে অপহরণ করা হয়। এই অপহরণের ঘটনার পরিকল্পনা করেন তারই আপন ভগ্নীপতি সাহেব আলী। তার দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ পায়। সেখানে সাকেব আলী বলেন, অপহরণের ঘটনার দিন আসামি রাসেল বাই সাইকেলে করে ওলিকে তার স্কুল থেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে রাজশাহী শহরে ও পদ্মার পারে নিয়ে গিয়ে সময় অতিবাহিত করে।
পরদিন ২৭ এপ্রিল রাত ২টার দিকে বিদিরপুরে পৌঁছে সাহেব আলীর সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করে। এরপর বেরাবাড়ির আব্দুল আজিজের ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং দিনের বেলা মাটি খুড়ে তার লাশ চাপা দিয়ে রাখা হয়। গ্রেফতারের পরে এই ঘটনার তারা জবানবন্দী দেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি সাহেব আলী ও মুকুল হোসেনকে ফাঁসি দেয় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। আসামি রাসেলকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আপিল করেন।
আসামিদের পক্ষে এএফএম মেজবাহউদ্দিন ও এসএম মুবিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত রায় দেয়।