তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় এক আসামির জামিনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা এবং না করার প্রশ্নে দুই বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ২২ মার্চের মধ্যে তাদেরকে লিখিতভাবে হাইকোর্টে এই ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মো: মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বশিরউল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদেশে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ার পরেও কেন জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়নি এ বিষয়ে মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ এবং শুনানির জন্য গ্রহণ করায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির বলেন, এ আইনের মামলায় যখন অভিযোগপত্র দাখিল হবে তখন সাইবার ট্রাইব্যুনাল জামিনের আবেদন শুনতে পারবেন। তবে অভিযোগপত্র দাখিল না হলে জেলা ও দায়রা জজ জামিন আবেদন শুনতে আইনগত বাধা নেই। কিন্তু উভয় বিচারকই এই জামিনের আবেদন গ্রহণ করা ও না করার প্রশ্নে সঠিকভাবে তাদের এখতিয়ার প্রয়োগ করেননি। ফলে হাইকোর্ট ব্যাখ্যা তলব করেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার আহমেদ সবুজ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে পুলিশ। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকে সরকার বিরোধী পোস্ট দিয়েছিলেন ওই যুবক। পরে মাগুরার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে তা না-মঞ্জুর হয়।
পরে মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন আহমেদ সবুজ। দায়রা জজ আদালত ওই বছরের ১৭ নভেম্বর জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। এরপর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ২৬ জানুয়ারি সাইবার ট্রাইব্যুনাল জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়।
সোমবার ওই আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট দুই বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে। আদালতে আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জুবায়ের এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির শুনানি করেন।