বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেয়া ছয়শত কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপিলের রায় বৃহস্পতিবার। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা পৃথক ১১ টি আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ করে আপিল বিভাগ বুধবার রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করে দেয়।
এক এগারোর সময় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে জরিমানার অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীকালে এসব জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। পরে এসব অর্থ ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এসব রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এস. আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ কোটি টাকা, দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেডকে ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ, মেঘনা সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজকে ৫২ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডকে ১৫ কোটি, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডকে ৯০ লাখ, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজকে ৭০ লাখ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টকে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডকে ৭ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ৩৫ কোটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের এক পরিচালককে ১৮৯ কোটি ও ইউনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের সত্ত্বাধিকারীকে ৬৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়।
বিভিন্ন সময়ে দেয়া হাইকোর্টের এ রায় স্থগিতের আবেদন জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলা হয়। আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ৩ আগষ্ট লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আপিলের অনুমতি প্রদান করে। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী প্রমুখ শুনানি করেন।