‘স্বামী ছাড়া মামলা নেব না’

 
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওসিসিতে (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) ৮ দিন ভর্তি ছিল মেয়েটি। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কড়াইল বস্তির পাশে স্থানীয় চার যুবক তাকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়। গত ১২ মার্চ মেয়েটি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী বনানী থানায় মামলা করতে যায়। সেদিন ‘ওসি থানায় নেই’ বলে মামলা নেয়নি থানা। পরদিন সোমবার আবারো থানায় যায় মেয়েটি; কিন্তু এবারও ওসির দেখা পেলেন না।
 
মঙ্গলবার মেয়েটি থানায় গিয়ে ওসি ফরমান আলীর সঙ্গে দেখা করেন। মামলা করার বিষয়ে একটি অভিযোগ তার হাতে দেন। ওসি সেটি পড়ে মুচড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেন। মেয়েটির অভিযোগ, ওসি বলেন, 'এইসব কাগজে কিছু হবে না। মামলা নিয়ে আমরা বিপদে পড়ব নাকি। যতসব ফালতু অভিযোগ। স্বামীকে আনেন। স্বামী ছাড়া কোনো মামলা নেব না।'
 
এ সময় নির্যাতিত মেয়েটি ওসিকে জানান, ঘটনার শিকার তিনি। ঘটনার সময়তো তার স্বামী ছিল না। তাহলে কেন মামলার সময় স্বামীকে লাগবে? প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওসি মেয়েটিকে থানা থেকে বের করে দেন।
 
বুধবার মেয়েটি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, 'থানায় গিয়া মামলা করবার চাইলাম। ওসি স্যার বলে স্বামীরে লাগব। নির্যাতন যখন করছে তখনতো স্বামী ছিল না। তাইলে মামলার সময় স্বামীরেও লাগব ক্যান? কোন মাইয়া কি সাইধা নিজের গায়ে অপবাদের কালি লাগায়? আমার স্বামীরে শয়তানগুলা ভয় দেখাইয়া কইছে, তুই এর বিরুদ্ধে গেলে দোকান-ঘর সব হারাবি। তোরে পঙ্গু বানায়া রাখমু। ভয়ে আমার স্বামী আমার সঙ্গে থাকতেছে না। পাশে দাঁড়াইতেছে না।'
 
মেয়েটি বলেন, 'আমারে যেইদিন অত্যাচার করে তার দুইদিন আগে আমি এই শয়তানগুলার নামে থানায় জিডি করছিলাম। সেই রাগে আমার ক্ষতি করল তারা। ক্ষতিও হইল আমার আবার থানায় মামলাও নেয় না। আমি তাইলে যামু কই? মইরা কি প্রমাণ দিতে হইব আমারে, আমার ক্ষতি হইছে।'
 
বনানী থানার ওসি ফরমান আলী বলেন, তার কথাবার্তায় অসামঞ্জস্য আছে। তাকে বলেছি তার স্বামীকে নিয়ে আসতে। স্বামী নিয়ে আসলেই মামলা নেয়া হবে বলেছি।