‘ছায়ানীড়ে’ বোমার ছড়াছড়ি, পাওয়া গেল শিশুর নিথর দেহ

সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকার জঙ্গি আস্তানায় বিভিন্ন ধরনের বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিন-চার রকমের শক্তিশালী বোমা ছিল। 
 
এছাড়া ওই বাসার সিঁড়িঘরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।শিশুটির বয়স পাঁচ থেকে ছয় মাস হতে পারে। 
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘ছায়ানীড়’নামে ওই ভবনের সামনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিসি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গি আস্তানায় যে সব উপাদান পাওয়া গেছে, তা  দিয়ে ৪০-৫০টি বোমা তৈরি করা সম্ভব। নিহত চার জঙ্গির মধ্যে দুইজন বোমা বিশেষজ্ঞ ছিল।   এ ছাড়া ভবনের সিডির কাছে এক শিশুর লাশ পাওয়া গেছে। লাশটি নারীর জঙ্গির মৃতদেহের পাশে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে- শিশুটি ওই নারী জঙ্গির। 
 
তিনি আরো জানান, ভবনে ছোট-বড় কয়েকটি বোমা এবং ১২ সেট জেল এক্সপ্লোসিভ পাওয়া গেছে। এছাড়া পাইপের টুকরো, সুইচ, ব্লাস্টিংস ক্যাপ এবং একটি কার্টনের ভেতরে লিকুইড এক্সপ্লোসিভ পাওয়া গেছে।  বিস্ফোরক বোঝাই দুটি সুইসাইডাল ভেস্টসহ চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। 
 
প্রসঙ্গত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোডে ছায়ানীড় নামে একটি বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে ‘আত্মঘাতী বিস্ফোরণে’দুইজন এবং জঙ্গি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় দুইজন নিহত হয়েছেন। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চার সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই সোয়াত সদস্যকে সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। 
 
এ দিকে বুধবার বিকেল তিনটার দিকে শুরু হওয়া অভিযান বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে শেষের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চারটি ডেডবডি সেখানে দেখেছি। তাদের দুজনের শরীরে ছিল সুইসাইড ভেস্ট। বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজন মারা গেছে পুলিশের গুলিতে। 
 
সারারাত ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে সকাল ছয়টার দিকে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সোয়াত টিম। বিশেষ এ দলের সঙ্গে অভিযানে অংশ নেন চট্টগ্রামের সোয়াত, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। 
 
উপজেলার আমিরাবাদ গ্রাম ও পৌরসভার চৌধুরীপাড়া এলাকায় বুধবার বিকাল থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, আমিরাবাদে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই দুই জঙ্গি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে চৌধুরীপাড়ায় পুলিশের সাথে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়। বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।