চট্টগ্রামসহ তত্সংলগ্ন এলাকায় আর কতগুলো জঙ্গি আস্তানা রয়েছে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ। কারণ জেলার মীরসরাই এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই পাশের সীতাকুণ্ড এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে দু’টি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
গত বুধবার সীতাকুণ্ড পৌরসভায় আমিরাবাদ এলাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং এক রিক্সাওয়ালার প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একজন নারী ও পুরুষ জঙ্গিকে আটক করা সম্ভব হয়। তাদেরই তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সংলগ্ন প্রেমতলা এলাকা থেকে বিপুল বিস্ফোরকসহ আরেক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। এখানে ২ জন আত্মঘাতী বোমায় মারা যায় এবং নারী ও শিশুসহ অপর ৩ জন পুলিশের সাথে সংঘর্ষে মারা যায়। আমিরাবাদ ও প্রেমতলাতে পাওয়া জঙ্গিদের সকলেই সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আমিরাবাদ থেকে গত বুধবার ধৃত ২ জনের সাথে সুইসাইড বোমাসহ বেল্ট ছিল।
মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডের এ তিনটি ঘটনা পরপর উদ্ঘাটন বা ধরা পড়ায় পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সাধারণ জনগণের মধ্যে এর আরো ব্যাপকতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ কারণে বুধবার রাতেই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকার বাসা-বাড়িতে থানা থেকে নাগরিক পরিচয়ের ফরম বিতরণ শুরু হয়। ইতোপূর্বে ঢাকায় হলি আর্টিজানের ঘটনার পরও একবার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ফরম বিতরণ করা হয়েছিল।
পুলিশসহ অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, জেলার অন্যান্য উপজেলা কিংবা শহরতলীতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা-বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলা হতে পারে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর নগরী হওয়ায় জঙ্গিরা চট্টগ্রামকে তাদের পরবর্তী লক্ষ্যস্থল হিসেবে বেছে নিতে পারে। আবার অনেকের মতে, চট্টগ্রামে বিভিন্ন ইপিজেডসহ শিল্প-কারখানা ও প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক বিদেশি লোকজনের উপস্থিতি রয়েছে। সে কারণে বিদেশি লোকজনের মধ্যে ভীতি সঞ্চারসহ দেশকে অস্থিতিশীল করার চিন্তা থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরো জঙ্গি আস্তানা থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলাসহ তত্সংলগ্ন এলাকায় ২০০৫ সাল থেকে জেএমবি’র কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয়। ওই বছরের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে জেএমবি তাদের উপস্থিতি জানান দেয়। এরপর চট্টগ্রামে এদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়। ১৭ আগস্টের পর ৩ নভেম্বর তারা বইয়ের ভেতরে বোমা নিয়ে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে বিস্ফোরণ ঘটায়। তারই ধারাবাহিকতায় নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন কর্নেল হাট এলাকার একটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি জেল ও পাউডারসহ জাবেদ নামে জেএমবি’র এক শীর্ষ নেতাকে আটক করে পুলিশ।