উদ্বোধনী ও দ্বিতীয় মঞ্চায়নে দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়ে তৃতীয়বারের মতো মঞ্চে আসছে ‘সুরগাঁও’। দেশের খ্যাতিমান নাট্যকার মাসুম রেজা নির্দেশনায় নাটকটি ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগামী ২০ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় নাটকটি তৃতীয়বারের মতো মঞ্চায়িত হবে।
পরবর্তী মঞ্চায়নকে সামনে রেখে মাসুম রেজা এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, যে ঠোঁটে জমা থাকে চুমু সে ঠোঁটেই হুল গজাক.. কারো কারো চুমু নয় চায় হুলের দংশন.. ২০ মার্চ শিল্পকলার নাট্যশালায় সন্ধ্যে সাতটায় সুরগাঁওয়ে বেড়াতে আসুন..
সুরগাঁওয়ে আনাল ফকির, আসমান, ছুহি, হাক্কা ব্যাপারি, বাঁশিবুড়ি, ওষ্ঠকালা, নীহাররঞ্জন, কাবিল, কুশি ও মুজাহেবদের বাস। গ্রামের গোড়াপত্তনকারী আনাল ফকির ১৮০ বছর আগের কোনো একরাতে হঠাত্ উধাও হন। বাঁশিবুড়ির হাতে দিয়ে যান এক মোহন বাঁশি। বলে যান বাঁশির সুর দিয়ে মানুষের ভেতরের অসুরতাকে দূর করতে। সেই থেকেই বাঁশিবুড়ি থানা থেকে আসামি নিয়ে এসে বাঁশি বাজানো শেখায়। আর আসমান তার চার পুরুষের পরের বংশধর এবং ভবিষত্ দ্রষ্টা। সে দেখে তার ‘চাইর দাদা’ আনাল ফকির আবার গাঁয়ে ফিরছেন। একদিন সত্যিই হাজির হন আনাল ফকির। সময়ের বিপরীতে ১৮০ বছর প্রত্নকাল ভ্রমণ করেন তিনি। পাণ্ডব ভার্যা দ্রোপদী, সক্রেটিসের বন্ধু ক্রিটো ও দামেস্কোর আমীর অমূল্য কিছু উপহার দেন তাকে। কালের বিপরীতে ভ্রমণ ও কালের গর্ভ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে তাম্রসেনার দল ঢুকে পড়ে সুরগাঁওয়ে। কালরক্ষীর পরিচয় দেওয়া সেনারা সময়কে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে চায়। সুরগাঁওয়ে শুরু হয় সুর আর অসুরের দ্বন্দ্ব।
পুরো নাটকজুড়েই ফুটে উঠেছে অতীত ও বর্তমান সমাজের নানা অসঙ্গতি। ধর্মযুদ্ধ, অবিচার থেকে শুরু করে শাসকগোষ্ঠীর নানা অত্যাচারের দৃশ্য।