সীতাকুণ্ডে ২৪ ঘণ্টায় নিষ্ক্রিয় করা হলো ১৩টি বোমা

সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দল গত ২৪ ঘণ্টায় জঙ্গিদের মজুদকৃত বোমাগুলোর মধ্যে ১৩টি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে। এখনো বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
 
জানা গেছে, পৌরসভাস্থ ৫নং ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়া গ্রামে জঙ্গিদের আস্তানা ‘ছায়ানীড়’ নামে একটি বাড়ির নীচ তলার কক্ষে সোয়াতের বিশেষ টিম অপারেশন অ্যাসল্ট-১৬ গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় অভিযান চালিয়ে ৪ জন জঙ্গিকে নির্মূল করে।
 
জঙ্গিদের নির্মূল করার পর ঐদিনই বেলা ১১টা থেকে পুরো বাড়িটি বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দল তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা বোমাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে বড় বোমা ১০টি এবং কোমড়ে বেঁধে সুই-সাইড করার জন্য ৩টি বোমা নিষ্ক্রিয় করে। তবে আরো অনেক বোমা থাকতে পারে তাই বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দল এখনো তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
 
অপরদিকে গত বুধবার ৭নং ওয়ার্ডের আমিরাবাদ গ্রামে সাধন কুঠির থেকে ২ জঙ্গিকে আটকের পর ঐ কক্ষটি পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তালা দেয়া হয়। কারণ কক্ষটিতে আরো কিছু আছে কিনা তা বোমা বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে আরেকবার পরীক্ষা করা হবে।IMG0
 
আটককৃত জঙ্গি মো. জসিম উদ্দিন (২৪) কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁ এলাকার মৃত শহীদুল আলমের ছেলে বলে জানা যায় এবং জঙ্গি তার স্ত্রী আরজিনা বেগমের (১৯) সুন্দর ফুটফুটে ৬ মাস বয়সের মোসলেন নামে একটি সন্তান আছে। তাদের দুই জনকেই মডেল থানার আলাদা আলাদা কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয় ও শিশুটিকে শুধুমাত্র দুধ খাওয়ানোর জন্য সময় মত মায়ের কাছে দেয়া হয়। দুধ খাওয়ানো হলে বাচ্চাটিকে আবার পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। এদিকে আটককৃত আরজিনা আটক হওয়ার সময় পুলিশকে বলতে শোনা গেছে, ‘কেন আমাকে বাঁচালেন, ধরলেন, আপনারা না ধরলে তো আমি মরে যেতাম’। সে আটক হওয়ার আগে তার কোমড়ে আত্মঘাতী বোমা বাঁধা ছিল। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাড়িওয়ালার স্ত্রী ছবি রানী দাস আরজিনাকে ধরে রাখে। এদিকে আটককৃত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা হয়। 
 
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইফতেখার হাসান পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকের পর থেকে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ও আসামিদের আদালতে তুলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে চাওয়া হবে। তবে আসামিরা সহজে মুখ খুলছে না এবং তারা হার্ড লাইনে আছে।