`দেশে কমিউনিটি পর্যটন বাড়াতে হবে। পর্যটন বিষয়ে নারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। নারীদের ভ্রমণে উৎসাহিত করতে সরকারকে কাজ করতে হবে। পর্যটন এখন আর দেশ দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম বাহন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও পর্যটনকে গুরুত্ব দিতে হবে।'
শুক্রবার উইমেন ট্রাভেলার ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজক ট্রিপজিপ। সহায়তা করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী অফিসার ড. মো. নাসির উদ্দিন ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী। অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন ট্রিপজিপের কর্ণধার কানিজ ফাতিমা।
রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যটনেও তারা এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মেয়েরা যথেষ্ট যোগ্যতার সঙ্গে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহী হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটন একটি বিকাশমান শিল্প। তবে জঙ্গি তৎপরতার কারণে বিদেশিরা আসতে চান না। তবে আশার কথা, এখন পর্যন্ত এই শিল্প অগ্রসরমান। পর্যটনে বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর পরিচিত নাম। এখন হেলথ ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, আর্কিওলজিক্যাল ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম ও মুসলিম দেশগুলোতে হালাল ট্যুরিজম বিকশিত হচ্ছে।
তাসমিমা হোসেন বলেন, পর্যটন মেয়েদের আনন্দ দিবে এবং আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়ক হবে। এছাড়া ঘর থেকে বের হয়ে এসে সুন্দর উপভোগের মাধ্যমে তারা আরো সাহসী হয়ে উঠবে। তিনি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ঘুরতে গেলেই জ্ঞান অর্জন হয়। নতুন কিছু জানা যায়। পর্যটনের জন্য আমাদের অনেক কিছুই আছে। প্রযুক্তির এই যুগে পর্যটনের উৎকৃষ্টতার জন্য ডিজিটাল প্রচারণা চালাতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানা সুবিধার কথাও তাদের জানাতে হবে। দেশের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখন পর্যটনের সময় মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে বিশেষ জোড় দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরো সাশ্রয়ী করতে হবে। এতে করে সাধারণ মানুষও সহজে ভ্রমণ করতে পারবে। কমিউনিটি পর্যটন বাড়াতে হবে। কৃষক থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
অনুষ্ঠানে ‘তোমার চোখে বাংলাদেশের সৌন্দর্য’ শীর্ষক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সেঁজুতি শবনম (প্রথম), উম্মে তাস্মিমা ইভা (দ্বিতীয়) ও সাদিয়া শারমিনের (তৃতীয়) হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এছাড়া ‘প্রিয় স্থানে ভ্রমণের সময় নিজের সেলফি’ প্রতিযোগিতায় জয়ী তানজিমা রিধি (প্রথম), শিরিন লঙ্কা দাস (দ্বিতীয়), বিথি আফরিনের (তৃতীয়) হাতেও পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।