আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হয়

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ ও জাতির উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আর যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নন, তারা দেশের উন্নতি করে না। তারা ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়তে ব্যস্ত থাকে। পঁচাত্তরের পর ২১টি বছর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমনকি তারা বলেছিল, এ দেশে গরিব এবং খাদ্য কম থাকা ভালো, তাহলে বিদেশ থেকে ভিক্ষা, সহযোগিতা পাওয়া যাবে। গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তাটি দেশে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশে তৈরি কাপড়, বিশেষ করে তাঁতীদের বোনা কাপড়ের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি কখনো ফ্রেঞ্চ শিপন ব্যবহার করি না। বাংলাদেশে তৈরি, আমাদের তাঁতীদের তৈরি কাপড়ই সব সময় ব্যবহার করি। এটা সুতির কাপড় হোক, সিল্কের কাপড়, এমনকি খদ্দর শাড়িও পরি। বিদেশে যত উপহার দেই, সেখানেও সব সময় দেশে তৈরি কাপড় রাখি। নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও তাঁতীদের বোনা কাপড় ব্যবহারে উত্সাহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেরাও শার্ট, পাঞ্জাবি সব কিছু তাঁতীদের তৈরি কাপড় থেকে পরতে পারে। এগুলো দেখতেও সুন্দর। প্রধানমন্ত্রী তার সন্তান-সন্ততিদের খদ্দরের কাপড় কিনে দেন এবং সবাই সেটা ব্যবহার করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের তাঁত শিল্পের কাপড় শুধু পরিধান নয়, গৃহে নানামুখী কাজে এর ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে। আমি আশা করব সকলে সেদিকে নজর দেবেন। কাজেই এই তাঁত শিল্পকে আমরা আরো উন্নত এবং সমৃদ্ধিশালী করতে চাই। সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে এবং এজন্য যা যা করণীয় আমরা তা করব।

তাঁতশিল্পকে আরো আধুনিক ও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শিল্পের প্রসারে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপই তার সরকার নেবে। তিনি বলেন, মসলিনের ওপর চার ইঞ্চি জরির কাজ করতে পুরোটা দিন লেগে যায়। এই যে তারা মনোযোগ দিয়ে একটি বস্ত্র তৈরি করছেন এটাও তো একটি অত্যন্ত উন্নতমানের শিল্প। কাজেই এটাকে আরো বেশি সহযোগিতা করার জন্য আমাদের সরকার সব সময় প্রস্তুত এবং আমরা তা করে যাব। এই শিল্প যেন আরো উন্নত হয়, সম্প্রসারিত হয়, সেদিকেই আমরা নজর দিচ্ছি। তাঁত বোর্ডকে ডিজিটাইজড করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা একটা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ও দেশে প্রতিষ্ঠা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংগঠনকে শক্তিশালীকরণসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের বিষয়ে বলেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমাদের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনের বিষয়ে আমি বলতে চাই— প্রত্যেকটি সংগঠন নীতি ও আদর্শ মেনে চলবে এবং এর ফলে সংগঠনের উন্নয়ন হবে। অন্যান্য সহযোগী সংগঠন যারা যেখানেই করছেন, সেখানেও সেই সম্প্রদায়ের মানুষের যাতে কল্যাণ ও উন্নতি হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। এটা একান্তভাবে প্রয়োজন।

তাঁত শিল্প চরম অবহেলার শিকার উল্লেখ করে তাদের ভাগ্যোন্নয়নে সংগঠন নেতৃবৃন্দকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠন মানে কিন্তু কেবল নেতা হয়ে বসে থাকা নয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁতী পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি তাদের এই শিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার বিষয়েও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ জামদানীর পেটেন্ট রাইটস অর্জন করায় এ শিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা এবং পাশাপাশি তাঁত ও সিল্ক শিল্প যেন বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করতে পারে তার জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান।

তাঁতী লীগের আহবায়ক এনায়েতুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তাঁতী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সাধনা দাস গুপ্তা প্রমুখ। প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক খগেন চন্দ্র দেবনাথ সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী। প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। মিলনায়তনে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বসানো তাঁত কল পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ডেলিগেট, কাউন্সিলর ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তাঁতী লীগের সভাপতি শওকত, সম্পাদক খগেন্দ্র

বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী, আর খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলনে মূল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন। পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন।

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় তাঁতী লীগের নাম ছিল পাকিস্তান তাঁতী সমিতি। স্বাধীনতার পর নাম হয় বাংলাদেশ তাঁতী সমিতি। পরে ২০০৪ সালে তাঁতী লীগ হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হয় আহবায়ক কমিটির মধ্যদিয়ে। দীর্ঘ ১৩ বছর এটি পরিচালিত হয়েছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে।

সূত্র জানায়, শততম টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয়ের খবর যখন আসে, তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁতী লীগের সম্মেলনের মূল অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওবায়দুল কাদের হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে জয়ের খবরটি জানান।

ইত্তেফাক/নূহু