হ্যান্ডসকম্ব-মার্শের ব্যাটিং দৃঢ়তায় রাঁচি টেস্ট ড্র

চতুর্থ দিন শেষে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রাঁচি টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো স্বাগতিক ভারত। কিন্তু পঞ্চম দিনে দুই অসি মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান শন মার্শ ও পিটার হ্যান্ডসকম্বের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ড্র হলো সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। পঞ্চম উইকেট জুটিতে মার্শ ও হ্যান্ডসকম্বের ৩৭৩ বল মোকাবেলাতে ড্র হয় টেস্টটি। এই ড্র’তে চার ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতাই থাকলো।
 
 
রাচিঁ টেস্ট ম্যাচের পঞ্চম দিন সকালের সেশনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অসিরা। ভারতের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের স্পিনার রবিন্দ্র জাদেজা ৪ উইকেট তুলে ভয় ধরিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত শন মার্শ এবং পিটার হ্যান্ডসকম্বের ব্যাটিং প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।
 
 
অসিদের ৪৫১ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৬০৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ডাবল সেঞ্চুরি করেন চেতেশ্বর পুজারা। তার ৫২৫ বলে ২০২ রানের ইনিংসটিতে ভর করেই মূলত শক্ত অবস্থানে যায় ভারত। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যন ঋদ্ধিমান সাহার অবদানও কম নয়। ২৩৩ বলে করেন ১১৭ রান। অধিনায়ক ও রান মেশিন বিরাট কোহলি এবারো রান করতে ব্যর্থ হলেও এই দুজনের ব্যাটে ভর করে রানের পাহাড় গড়ে তোলে ভারত। এ ছাড়া মুরালি বিজয় ৮২, লোকেশ রাহুল ৬৭ এবং রবিন্দ্র জাদেজার ৫৫ বলে ৫ চার এবং ২ ছক্কায় অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসগুলো উল্লেখযোগ্য।
 
 
প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দিন শেষে ২ উইকেটে ২৩ রান তুলেছিলো স্টিভেন স্মিথের দলটি। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নাকে ১৪ ও নাইটওয়াচম্যান নাথান লিঁওকে ব্যক্তিগত ২ রানে শিকার করে ভারত জয়ের স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করার মিশন নিয়ে পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। রানের দিকে চোখ না দিয়ে উইকেট বাঁচিয়ে ক্রিজে টিকে থাকার মিশন শুরু করেন ৭ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার ম্যাট রেনশ। লড়াইয়ে দিনের শুরুতে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যান প্রথম ইনিংসে ১৭৮ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক স্মিথকে।
 
 
তৃতীয় উইকেটে ৩৬ রান যোগ করেন রেনশ ও স্মিথ। বল মোকাবেলা করেন ১২৮টি। রেনশকে বিদায় দিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা।  রেনশ ফিরে যাবার ২ বল পর প্যাভিলিয়নে পাড়ি জমান স্মিথও। জাদেজা দুর্দান্ত এক ডেলিভারতে থেমে যায় স্মিথের লড়াই। রেনশ ৮৪ বলে ১৫ ও স্মিথ ৬৮ বলে ২১ রান করেন। ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া আরো চাপে পড়ে যাওয়ায় ভারতের জয়ের স্বপ্ন বেড়ে যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধসাধেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যান মার্শ ও হ্যান্ডসকম্ব। ভারতীয় বোলারদের সমীহ করে নিজেদের লড়াই শুরু করেন দু’জনে। 
 
 
উইকেট কামড়ে ধরে ভারতীয় বোলারদের ৩৭২টি ডেলিভারিতে বিপদ ছাড়াই পার করে দেন মার্শ ও হ্যান্ডসকম্ব। কিন্তু তাদের জুটির ৩৭৩ নম্বর ডেলিভারিটিতে ঘটে বিপদ। জাদেজার চতুর্থ শিকারে তীব্র লড়াইয়ের থেমে যায় মার্শের ১৯৭ বলের ইনিংসটি। ৭টি চারে ৫৩ রান করা মার্শকে বিদায় দেন জাদেজা। দিনের খেলা শেষ হবার ৫২ বল আগে থামেন মার্শ। ততক্ষণে লিডও নিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেটি ছিলো খুবই ছোট, ৩৫ রানের। তবে ভাগ্য ঠিকই নির্ধারণ করে দেন মার্শ-হ্যান্ডসকম্ব। মার্শের বিদায়ের ক্রিজে গিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি প্রথম ইনিংসে ১০৪ রান করা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫ বল খেলে ২ রান করে ভারতের ডান-হাতি স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিনের প্রথম শিকার হন ম্যাক্সওয়েল।
 
 
এরপর দিনের বাকী ৩২ বল বিপদ ছাড়াই শেষ করে রাঁচি টেস্ট ড্র করে অস্ট্রেলিয়া। হ্যান্ডসকম্ব ২০০ বল মোকাবেলায় ৭টি চারে ৭২ রান অপরাজিত থাকেন । অপর প্রান্তে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। এসময় অস্ট্রেলিয়ার রান ছিলো ১শ’ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৪।
 
 
রাঁচি টেস্ট ড্র হওয়ায় সিরিজে এখনো ১-১ সমতা বিরাজ করছে। আগামি ২৫ মার্চ থেকে ধরমশালায় সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। ওই ম্যাচেই সিরিজের ভাগ্য নির্ধারন হয়ে যাবে। 
 
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
 
অস্ট্রেলিয়া: ৪৫১ ও ২০৪/৬, ১০০ ওভার (হ্যান্ডসকম্ব ৭২*, মার্শ ৫৩, জাদেজা ৪/৫৪)। 
ভারত: ৬০৩/৯ডি, ২১০ ওভার (পূজারা ২০২, ঋদ্ধিমান ১১৭, কামিন্স ৪/১০৬)। 
ফলাফল: ড্র। 
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: চেতেশ্বর পূজারা (ভারত)। 
সিরিজ: চার ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় থাকলো।