লৌহজং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন!

কালিহাতী উপজেলার লৌহজং নদীতে কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

উপজেলায় সরকার অনুমোদিত কোনো বালু মহাল না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত্ বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে সরকার একদিকে যেমন হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব অন্যদিকে নদী পাড়ের মানুষগুলো হারাচ্ছে তাদের ঘর-বাড়ি। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অনেকেই ইতোমধ্যে সর্বস্বান্ত হওয়ার অবস্থা। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় বালু ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরো বেপরোয়া রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

লৌহজং নদীর এলেঙ্গা, পৌলী, পাথাইলকান্দি, ধলাটেংগর ও হাতিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধভাবে বালু ব্যবসা করে আসছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। এর মধ্যে গত কয়েক মাস যাবত্ এলেঙ্গা, পাথাইলকান্দি ও ধলাটেংগরে নতুন বালুঘাট তৈরি করে কালিহাতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হালিমুজ্জান লিটন, স্থানীয় লুত্ফর রহমান ও ফরজ আলী, মোবারক মেম্বার, সায়েম উদ্দিন ও পৌর কাউন্সিলর বারেকের নেতৃত্বে ভেকু দিয়ে নদী কেটে চলছে বালু বিক্রি। এতে হুমকিতে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেল ব্রিজ, পৌলী ব্রিজ, এলেঙ্গা ব্রিজসহ নদীর দুই পাড়ের শতাধিক ঘর-বাড়ি। দিনরাত বিরামহীন বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে এলেঙ্গা-পটল ব্রিজ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে বালু ভর্তি ট্রাক চলাচল করায় ধুলাবালু উড়ে গিয়ে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। পৌলী ও মহেলা গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি ভেঙে এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি দুইবার তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন ভেসে উঠে টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় জেলাগুলোর সাধারণ জনগণকে।

এদিকে উপজেলা যুব দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হালিমুজ্জামান লিটন বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন জানান, এর আগেও অভিযান চালিয়ে ঘাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু