জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে এসে কেউ বললেন বাংলা নাট্যের গৌরব তিনি। কেউ বললেন মঞ্চে উদ্ভাসিত সৌরভ। সত্যিই তো মঞ্চ নাটকের প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি। মঞ্চে মাত্র ৩৩টি নাটকের ষোল শতাধিক মঞ্চায়নে অভিনয় করেছেন। তিনি শিমূল ইউসুফ। বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের এক উজ্জ্বল কা্লারি। এই কিংবদন্তুিতুল্য অভিনেত্রী শিমূল ইউসুফ অগণিত ভক্তের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন। খোলা মঞ্চে মানুষের ভালোবাসা উষ্ণতা ছড়ালো।
শিমূল ইউসুফ ষাট বছরে পদার্পণ করেন গতকাল মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির মাঠে গতকাল সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে ‘জয়ন্তী মঞ্চকুসুম শিমূল’ শিরোনামে দুদিনের অনুষ্ঠানমালা।
মঞ্চে তার অভিনয় বাংলার মানুষকে আনন্দ দিয়েছে। হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে। তার ভক্ত, শুভার্থী ও বন্ধুরা শিল্পীকে সেই আনন্দের প্রতিদান দিলেন ভালোবাসা জানিয়ে, শ্রদ্ধা জানিয়ে।
জন্মদিনে শিমূল ইউসুফ বললেন, আমি কৃতজ্ঞ, মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত। কিভাবে যে এই কৃতজ্ঞতার কথা সবাইকে জানাবো তা বুঝতে পারছি না।
আটপৌরে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল মানুষের উপস্থিতিতে। আয়োজনের মতোই মঞ্চসজ্জাও ছিল স্বতন্ত্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন। শিমূল ইউসুফের জন্মদিনে নিবেদিত নিজের লেখা শংসা বচন পাঠ করেন রুবাইয়াত্ আহমেদ। উত্তরীয় পরিয়ে দেন সবর্জন শ্রদ্ধেয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সালাউদ্দিন জাকী। জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।
অনুষ্ঠানে অগ্রজ শিল্পী হিসেবে শিমূল ইউসুফের জন্মদিনের পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে হাজির হন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, আবৃতিশিল্পী আশরাফুল আলম ও সঙ্গীত শিল্পী সুবীর নন্দী। শিমূল ইউসুফকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন নাট্যব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী, আবৃত্তি শিল্পী রূপা চক্রবর্তী, আবৃত্তিশিল্পী মো. আহ্্কাম উল্লাহ, নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান, গানের দল জলের গানের রাহুল আনন্দ ও অভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা। সব শেষে দিলু বয়াতি পরিবেশন করেন ‘সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামান’ শিরোনামের পালা।
নিজের জন্মদিনের ফুলগুলো শিমূল যখন অকালে হারিয়ে যাওয়া লোকসঙ্গীত শিল্পী কালিকা প্রসাদের প্রতি নিবেদন করেছেন তখন নেপথ্যে ভেসে বেরিয়েছে বেহালার করুণ সুর। আজ বুধবার সন্ধ্যায় একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে জন্মদিনের দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনা। শিমূল ইউসুফ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত রয়েছেন নাট্যচর্চায়। ১৯৭৪-এ যোগ দেন ঢাকা থিয়েটারে। আশির দশকে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনেও রয়েছে তার বিশেষ অবদান। মুনতাসির, শকুন্তলা, কীর্ত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, বনপাংশুল, প্রাচ্য, বিনোদিনী, ধাবমান নাটকে অভিনয় করে সবাইকে মুগ্ধ করে চলেছেন। তার একক অভিনয়ের নাটক ‘বিনোদিনী’ বিশ্বনাট্য অলিম্পিকস ও আন্তর্জাতিক মনোড্রামা উত্সবে মঞ্চস্থ হয় এবং ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
বিশ্ব কবিতা দিবসে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা
মঙ্গলবার ছিল বিশ্ব কবিতা দিবস। দিবসটির দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কবিতাঙ্গন ও ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি সেন্টার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বেলা ১১টায় জাতীয় জাদুঘর থেকে এলিফ্যান্ট রোড পর্যন্ত আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে রাজধানীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও নির্বাচিত কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি সরদার আজাদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি কাজী রোজী এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কিংবদন্তী শিশু সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ছড়াকার রফিকুল হক দাদু ভাই, কবি আসলাম সানী, কবি ড. বিমল গুহ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি সাদের আলী, কবি সাবেদ আলী সাদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক মাহবুবুল আলমসহ আরো অনেকে।
পুতুলনাট্য দিবস উদযাপিত
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাটককে স্বমহিমায় পুনরুত্থানের আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে উদযাপিত হল বিশ্ব পুতুলনাট্য দিবস। গতকাল আলোচনা সভা, সেমিনার আর পুতুল নাটক মঞ্চায়নের আয়োজন করেছিল শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। এর আগে বিকালে একাডেমির সেমিনার হলে আয়োজন করা হয় ‘পাপেট থিয়েটার: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক গোলটেবিল বৈঠক। আলোচনায় যোগ দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন।
ইত্তেফাক/নূহু