পরিবেশ দূষণের চাইতে সন্ত্রাসবাদ এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পৃথিবীর কোনো কোনো দেশের কাছে এখন পরিবেশ দূষণের বিষয়টি যতটা না গুরুত্ব পাচ্ছে, তার চাইতে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি। তিনি বলেন, ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, রাষ্ট্র এবং পৃথিবীব্যাপী নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসব চ্যালেঞ্জ ভিন্ন ভিন্নভাবে গুরুত্ব পায়। সে হিসেবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

গতকাল বুধবার “বাংলাদেশের উপকূলীয় বনায়ন ও পুন:বনায়নে কমিউনিটিভিত্তিক অভিযোজন কর্মসূচি” প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।     রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা শুধু কয়েকটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিস্তীর্ণ এ উপকূল দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা থেকে শুরু করে সুদূর টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। এ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকার, বিশেষ করে বন বিভাগ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি দাতাসংস্থাগুলো এগিয়ে আসছে। এ জন্য তিনি ইউএনডিপিসহ অন্য সকল সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ২০১৬ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালে এ রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তাপমাত্রা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়ছে। এ বিষয়টি এখন অনেকের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের কাছে এখন সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি প্রধান্য পাচ্ছে। তবে ইউএনডিপিসহ কয়েকটি সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের সহায়তা দিয়ে আসছে। আমরা নিজেদের অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। পুরো উপকূলীয় এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উপরও তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বব্যাপী এ কাজগুলো প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ’ পুরস্কার পেয়েছেন। পরিবেশ রক্ষায় তিনি বনের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শ দেন।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইশতিয়াক আহমদ বলেন, দ্রুত নগরায়নের ফলে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ভালোভাবেই এ দূষণ মোকাবিলা করছে। তিনি বলেন, নিজস্ব উদ্যোগে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যা বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর কিওকো ইয়োকোসুকা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বড় মাপের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ  প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে। দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে গবেষণা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনও জরুরি।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুল করিম। প্রকল্পের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপির প্রোগ্রাম স্পেসালিস্ট আরিফ এম ফয়সাল। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বন বিভাগ ও ইউএনডিপি বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় বনায়ন ও পুন:বনায়নে কমিউনিটিভিত্তিক অভিযোজন’ কর্মসূচি নামে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)।

প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪টি জেলা যেমন ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও নোয়াখালী জেলায় বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া পিরোজপুর জেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী সংস্থাগুলো হলো- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, মত্স্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ইত্তেফাক/নূহু