খুলনা মহানগরীর সড়কগুলোর অবস্থা এমনিতেই বেহাল। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ওয়াসার পাইপ বসানোর জন্য অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখ্ুঁড়ি। এ কারণে তীব্র যানজটে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। শুকনো অবস্থায় প্রচণ্ড ধুলা আর বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা- এতে জনভোগান্তি আরো তীব্র হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, বাসা থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আজ নগরীর এ রাস্তা বন্ধ তো, কাল অন্য রাস্তা। অলিগলিও বাদ যাচ্ছে না খোঁড়াখুঁড়ি থেকে।
অবশ্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়কগুলোর সংস্কার কাজ শেষ হবে। তখন আর নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
খুলনা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, নগরবাসীর সুপেয় পানি সংকট নিরসনে ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মধুমতি নদী থেকে পানি এনে রূপসা উপজেলার সামন্তসেনায় পরিশোধন করা হবে। পরিশোধিত পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ হাজার ঘরে সরবরাহ করা হবে। এ লক্ষ্যে গত জানুয়ারি থেকে নগরীতে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে পাইপলাইনের কাজ শুরু হয়। এই পাইপ লাইন বসানোর কাজে অব্যাহত খোঁড়াখুড়িতে গত তিন মাস ধরে নগরীর অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নগরীর মিস্ত্রীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন জানান, গত তিন মাসে নগরীর ব্যস্ততম সাতরাস্তা ও ময়লাপোতা মোড় কয়েক দফা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। এখন আবার খোঁড়াখুঁড়ি চলছে ময়লাপোতার মোড়ে। এই দুটি মোড় দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করার কারণে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিচার্ড বলেন, কেডিএ এভিনিউ ও রয়্যাল মোড় হয়ে খানজাহান আলী রোডের রূপসা এলাকা পর্যন্ত সড়ক মাঝখান দিয়ে খোঁড়া হয়েছে। এর ফলে রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইজিবাইক চালক নয়ন আলী জানান, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে তা ঠিকমত সংস্কার না করায় গত তিন মাসে কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বর্ষা আসলে শহরের রাস্তা ডুবে যায়। তখনতো খানাখন্দ দেখা যাবে না, তখন সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়বে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার বলেন, সিটি করপোরেশনের রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব থাকলেও ওয়াসার এ প্রকল্পে আমরা সেটা করতে পারছি না। এই কাজের মধ্যে দিয়েই রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। আমরা কেবল তাদের পরামর্শ ও তাগাদা দিতে পারি এর বেশি কিছুই করার নেই।
খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ বলেন, সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে ৬৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৮০ কিলোমিটারের বেশি লাইন স্থাপন করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের মেরামত কাজ করা হবে। তখন আর এ কষ্ট থাকবে না।
ইত্তেফাক/নূহু