বকেয়া বেতন দাবিতে বাড্ডা-রামপুরা-মালিবাগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় রামপুরা ব্রিজের উভয় পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটের আঘাতে পাঁচ শ্রমিক আহত হয়। এ সময় ইটের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিত্সা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এক পর্যায়ে কাঁদানে গ্যাস ও কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করা হলে পুরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ‘লিরিক’ ইন্ডাস্ট্রিজের শতাধিক শ্রমিক রামপুরা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মোল্লা প্লাজার সামনে এ বিক্ষোভ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে যানবাহনের সারি রামপুরা ব্রিজ থেকে একপাশে মালিবাগ রেলগেট ছাড়িয়ে খিলগাঁও উড়ালসেতু এবং অপরদিকে উত্তর বাড্ডা ছাড়িয়ে নতুন বাজার পর্যন্ত পৌঁছে। এতে বিপাকে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। সবচেয়ে বিপাকে পড়েন অফিস ও স্কুল-কলেজগামী যাত্রীরা।
অবরোধকারীরা ও শ্রমিকরা জানান, গত সোমবার রাতে হঠাত্ করেই লিরিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে অনেক যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলেছে। মঙ্গলবার সকালে এসে তারা দেখেন কারখানা বন্ধ। কী কারণে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তা তারা জানেন না। তাদের কোনো টাকা-পয়সাও দেওয়া হয়নি। তারা গত তিন দিন ধরে আন্দোলন করলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।
রামপুরা থানার ওসি প্রবীর কুমার সাহা বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই এবং তিন মাসের বেতন না দিয়ে মালিকপক্ষ লিরিক গার্মেন্টস বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে শতাধিক শ্রমিক সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। প্রথমে তারা শন্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করলেও পরে পুলিশের উপস্থিতি দেখে পুলিশকে লক্ষ করে বালি নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্য ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল, জলকামান দিয়ে পানি নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রায় ১ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রলয় কুমার আরো বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু