ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট শুরু হয়েছে। যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একদিকে কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি অপরদিকে মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ এই দু’য়ে মিলে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
 
এছাড়া প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণেও চন্দ্রা এলাকায় রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরে যানবাহন ঢুকতে না পারায় যানজটের অন্যতম কারণ বলে হাইওয়ে পুলিশ শিকার করেছেন। শুক্রবার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে যানজটে স্থবির। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে প্রায় ৪০ কিঃ মিঃ এলাকায় যানজট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে যাত্রীদের পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে দেড় ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় গুণতে হচ্ছে ১০-১৫ ঘন্টা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশী সময় লাগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কবে নাগাদ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে তা কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না। তীব্র যানজট থাকায় এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
 
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। আজ শুক্রবার  মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস, গোড়াই, দেওহাটা ও পাকুল্যা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে পুরো মহাসড়ক।
 
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের অফিসার ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান জানান, রাতে মহাসড়কের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়। রাত যতই গভীর হতে থাকে যানজট আরো তীব্র আকার ধারন করে। ভোর রাতে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, ক্যাডেট কলেজ, বোর্ডঘর, কালিয়াকৈর, ও চন্দ্রা এরাকায় পর পর কয়েকটি মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে মহাসড়কের দুই পাশে যানজট শুরু হয়। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে বিকল হওয়া ট্রাকগুলো সরানোর চেষ্টা করে। কিন্ত প্রবল বৃষ্টির কারণে ট্রাকগুলো উদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার মহাড়কের কালিয়াকৈর ওভারব্রিজের উপর ট্রাক ও বাস বিকল হয়ে পরায় যানজট আরো তীব্র হতে থাকে। এই যানজটের ফলে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের নাটিয়াপাড়া ও ডুবাইল বাইপাস পর্যন্ত এই ৪০ কি. মি. এলাকায় তীব্র যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা নারী ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কিছু কিছু যানবাহন বিকল্প পথ হিসেবে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে পুরো মহাসড়ক।