একসঙ্গে বসবাসে রাজি না হওয়ায় আরিফাকে হত্যা!

 
রাজধানীর কলাবাগানে ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুন্নেসা আরিফা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলাম রবিনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নন্দাবাজার গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
 
গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, আরিফাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার পর এক বন্ধুকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর নেয় রবিন। এরপর তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে প্রথমে জামালপুরে যান। সেখান থেকে টাঙ্গাইলের একটি গ্রামে এক স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেন। এর মধ্যে তিনি তার মোবাইল ফোনে কেবল একবারই কথা বলেছেন তার এক বন্ধুর সঙ্গে।
 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, আরিফাকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেননি’ বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন রবিন। একসঙ্গে বসবাসে রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটির মধ্যে ‘আরিফার আনা ছুরিই তার গায়ে লাগে’ বলে রবিন পুলিশকে জানিয়েছে।
 
গত ১৬ মার্চ সকালে কলাবাগানের সেন্ট্রাল রোডের একটি বাড়ির প্রবেশ পথের সামনে যমুনা ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ আরিফুন্নেছাকে ছোরা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন রাতেই আরিফার ভাই আব্দুল্লাহ আল আমিন বুলবুল কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। সেখানে আসামি করা হয় আরিফার সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলাম রবিনকে। মামলা হওয়ার পর পুলিশ পাশের একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। রবিনই যে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে ওই ভিডিও দেখে অনেকটাই নিশ্চিত হন পুলিশ কর্মকর্তারা।
 
ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আরিফার সঙ্গে আবারও একসঙ্গে থাকতে চাইছিলেন রবিন। কিন্তু আরিফা রাজি হচ্ছিলেন না। রবিন বলেছেন, ওইদিন আরিফার কিছু জিনিস ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিনি সেন্ট্রাল রোডের বাসার সামনে হাজির হন। ‘সে বলছে, বারবার আরিফাকে একসঙ্গে থাকার বিষয়ে চাপ দিলে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আরিফা বাসা থেকে ছুরি নিয়ে আসে। দুই জনের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আরিফার ছুরি গায়ে লাগে বলে রবিন দাবি করেছে।’ আরিফার সাবেক স্বামীর এই দাবি কতটা সত্য তা যাচাই করা হবে বলে জানান এই  গোয়েন্দা কর্মকর্তা।