গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি দাবি

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার শপথ এবং একাত্তরের সেই ভয়াল ২৫ মার্চ কালরাতে শহীদদের স্মরণে সারাদেশের বধ্যভূমিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মশাল প্রজ্বালন, আলোর মিছিল, স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভীষিকাময় সেই রাতের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সংঘটিত গণহত্যা স্মরণে বাংলাদেশ এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল গণহত্যার আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক গীতিনাট্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সরকারের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রাঙ্গণে ‘রক্তাক্ত ২৫ মার্চ: গণহত্যা ইতিবৃত্ত’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সারাদেশে সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ  দিবসটি পালন করেছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের উদ্যোগে মিরপুর বাংলা কলেজ মাঠ এবং দক্ষিণের উদ্যোগে লালবাগ আজাদ মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী মিরপুর বধ্যভূমিতে বিশাল জনসভা করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দল। এর আগে মিরপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

দিবসটি উপলক্ষে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি শহীদ স্মৃতি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে তারা বিভিন্ন স্থানে ৩০ লাখ গাছ লাগান। বিকালে বঙ্গভবনের মাঠে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২৫ মার্চের কালরাতের স্মরণে ২৫টি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোর মিছিল করে সিপিবি। সন্ধ্যা ৬টায় পুরানা পল্টনের মুক্তিভবন থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা   চিরন্তন পর্যন্ত এই ‘আলোর মিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়। এইদিন বিকাল ৪টায় দলীয়  অফিস চত্বরে আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বালন, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটি। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করে ঐক্য-ন্যাপ। স্মরণ সভা করেছে বিকল্প ধারা।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শহীদদের স্মরণে স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শন, নাট্যানুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি, মশাল প্রজ্বালন এবং গণসমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বালন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অডিটরিয়ামে গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সনালের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি ২৫ মার্চের গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাইছে। অথচ বিএনপি জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারির মতোই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘটানো গণহত্যাকাণ্ডের দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব পাস হয়। দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামে নানা আয়োজন :চট্টগ্রাম অফিস জানায়, জেলা উদীচী, প্রেসক্লাব, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও ছাত্র সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে গণহত্যা দিবস পালন করেছে। এ সময় বক্তারা দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানান। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বিকালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

ইত্তেফাক/নূহু