সফল মিশন শেষে অজিদের মধুর সমস্যা

স্পোর্টস রিপোর্টার

অস্ট্রেলিয়া দলটা ২০১৮ সালে টানা দু’টি ওয়ানডে জিততে পারেনি। এমনকি ১৩টি ওয়ানডে খেলে তাদের জয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র দু’টি। সেখানে ২০১৯ সালে এসে, বিশ্বকাপের ঠিক আগেই টানা আটটি ওয়ানডে জিতে নিয়ে রীতিমতো আকাশে উড়ছে অজিরা। সেটাও এসেছে উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে, স্বয়ং ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।

এর শেষটা হলো পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় এক সিরিজ জয় দিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে অবশ্য অজিরা বরাবরই দুর্বার। ২০০২ সালের পর এটা পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়।

যদিও, নিজেদের মাটিতে সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে পরাজিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ানরা। এর আগে তিনবার পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের মাঠে ৩-০, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ৫-০ ও ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

তবে, এবার বিশ্বকাপের আগে মধুর সমস্যাতেই পড়তে হচ্ছে দলটিকে। কারণ, এমনিতেই দলের টপ অর্ডার দুর্দান্ত ফর্মে আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ, উসমান খাজা, শন মার্শরা বিস্তর রান করেছেন। মিডল অর্ডারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, পিটার হ্যান্ডসকম্বরা আছেন। এরই মধ্যে সর্বশেষ বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির কারণে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথের।

সব মিলিয়ে একাদশ তো বটেই, ১৫ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করাও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) জন্য একটা বড় ঝক্কির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।  দুবাইয়ে সিরিজ শেষ করে ফিঞ্চ তাই বলেই দিলেন যে, ফর্ম থাকার পরও কয়েকজনকে হয়তো দুর্ভাগ্য বরণ করে নিতে হতেও পারে।

তিনি বলেন, ‘গেল কয়েকদিন ধরে এমন কিছু কঠিন আলাপ-আলোচনা আমাদের মধ্যে চলছে। এটা সামনের কয়েকটা সপ্তাহও চলবে। কয়েকজনকে হয়তো দুর্ভাগ্য বরণ করে নিতে হবে। গত কয়েকটা মাসে যারাই সুযোগ পেয়েছেন, তারাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছেন। তবে, আমাদের ১৫ জনের একটা স্কোয়াড গঠন করতে হবে। সমস্যা হলো, এখন এখানে ২০-২১ জন আছেন যাদের সবারই বিশ্বকাপ খেলার সমান যোগ্যতা আছে, কেউই কারো চেয়ে কম নয়। এটা একটা ইতিবাচক ব্যাপার। তবে, নির্বাচকদের জন্য কাজটা খুবই কঠিন হবে।’

পঞ্চম ওয়ানডেতে, প্রথমে ব্যাটিং থেকে ৭ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার করার ৩২৭ রানের ইনিংসের জবাবে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩০৭ রানে ইনিংস শেষ করে। অস্ট্রেলিয়ান ইনিংসে উসমান খাজার ৯৮ ও ৩৩ বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ো গতির ৭০ রানই মূল ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া, শন মার্শ ৬১ ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৩ রান। জবাবে জয় থেকে ২১ রান দূরে থাকতেই থেমে যেতে হয় পাকিস্তানকে। হারিস সোহেলের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিও স্বাগতিকদের হার এড়াতে পারেনি। ১২৯ বলে ১৩০ রান করেন তিনি।  পাকিস্তান হারে ২০ রানের ব্যবধানে।

অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া ইমাদ ওয়াসিম বলেন, ‘সিরিজে ব্যক্তিগত যত অর্জনই থাকুক না কেন, ৫-০ ব্যবধানটা একটা বাজে ব্যাপার। সামনেই আমাদের ইংল্যান্ড সফর, এরপর বিশ্বকাপ। ফলে, আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।’