গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে আইসিএসএফের ৭ দফা

 
২৫ মার্চ তারিখকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ৭ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)। সরকারের কাছে প্রস্তাবিত এই ৭ দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চালানো এই গণহত্যা ও ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য পাকিস্তানের সেনা সদস্যদেরও যতদ্রুত সম্ভব শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
 
বিশেষজ্ঞ, সক্রিয় কর্মী, এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)। বিশ্বজুড়ে বিচারহীনতা নিরসন, ভিকটিমদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি। যুক্তরাজ্য থেকে পরিচালিত এই সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পাশ হওয়ার ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে রোডম্যাপ হিসেবে ৭ বিষয়ে দৃষ্টি নিবন্ধ করতে হবে। এগুলো হল- ভারতে সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও নথিপত্র সংগ্রহের উদ্দেশে ভারত সরকারের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া; ১৯৭১ এ বাংলাদেশে সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতির উদ্দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ; একই উদ্দেশে বিভিন্ন দেশ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও সমমনা সংস্থার সাথে যথাযথ যোগাযোগ, আদানপ্রদান ও কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া; ‘গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কিত শিক্ষা’ বাস্তবায়ন করা এবং তা স্থায়ীভাবে জাতীয় শিক্ষা পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে সংযোজন; মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ; মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ করা, যার অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত সকল দলিল সংরক্ষণ, ডিজিটাইজ, ও বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়ার পদক্ষেপগ্রহণ; এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও গণহত্যার স্বীকৃতি সংক্রান্ত সকল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নাগরিক উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা প্রদান।
 
আইসিএসএফের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে ব্যর্থ। প্রকৃত বিচারে এর মাধ্যমে সংগঠনগুলো তাদের নৈতিক কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি।