দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, একাত্তরে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম আজীবন চলবে। দেশের শান্তি শৃংখলা ও অগ্রগতির অন্তরায় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুক্তিযোদ্ধাদের অতন্দ্র প্রহরীর মত জেগে থাকতে হবে। নিজ নিজ এলাকায় জনমত গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মায়া বীরবিক্রম মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে তিন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য একেএম রিয়াজ উদ্দিন মানিক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ, যুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর কমান্ডার এমএ খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ রফিকুল আলম জর্জ, ইউএনও মোহা. মফিজুল ইসলাম, ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার, জেলা পরিষদ সদস্য মিনহাজ উদ্দিন খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম সরকার ইমন, উপজেলা চেয়ারম্যান কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক চৌধুরী বাবুল প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন- সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজ মিয়া।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পঁচিশ মার্চের রাতে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার স্বপ্ন নিশ্চিহ্ন করতে পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল। বর্বর এ হামলায় এদেশের নিরীহ নিরস্ত্র ৫০-৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে বিনা কারণে একদিনে এতো মানুষের হত্যাকাণ্ড, এতো রক্তপাত নজিরবিহীন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, এদেরও বিচার হবে। বিচারের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অপারেশন সার্চ লাইটের পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পণাও করা হয়েছিল। কিন্তু জানাজানি হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে সেদিন পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি।
মায়া চৌধুরী বলেন, ৭ মার্চের ঘোষণার পর জাতির বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, স্বাধীনতা সংগ্রাম অপরিহার্য। সেভাবেই জাতি প্রস্তুত হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার, আলবদর, শান্তিবাহিনী ও যুদ্ধাপরাধীরা সহযোগিতা না করলে এতো হত্যাকাণ্ড হতো না। বাংলাদেশের মাটিতে এদের ঠাই হবেনা। বাংলাদেশে এ গণহত্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে বলে মন্ত্রী এসময় উল্লেখ করেন। মন্ত্রী এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা পুরস্কার ও অর্থ সহায়তা করেন।