নবাবগঞ্জে খেলার মাঠে চলছে পাঠদান আকাশে মেঘ দেখলেই ছুটি

জেলায় নবাবগঞ্জ উপজেলার আওনা এম মুহীয়ুদ্দীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গাছতলায় পাঠদান করছেন। এ কারণে আকাশে মেঘ দেখলেই ছুটির ঘন্টা বেজে উঠছে। গত ৫ মার্চ রাতের ঝড়ে স্কুলঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকরা খোলা মাঠে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে নিদারুণ কষ্টে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের ১১৯ জন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে শ্রেণিকক্ষের সংকট চলছিল বিদ্যালয়টিতে। সেই সাথে প্রতিবছরই বাড়ছিল শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তাই বাধ্য হয়ে এক কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীরা বসতো। এ অবস্থায় গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনকাঠের ঘর নির্মাণ করেন কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাস ওই ঘরে ক্লাস করছিল ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির (খ) শাখার ১১৯ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু গত ৫ মার্চ রাতে হঠাত্ ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনকাঠের ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে গাছতলায় পাঠদান শুরু হয়।

সরেজমিনে গত রবিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনকাঠের আধাপাকা একটি ঘরের ছয়টি কক্ষের পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ও একটিতে নৈশপ্রহরীর থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। অপরদিকে দুই তলার একটি পাকা ভবনে পাঁচটি কক্ষের মধ্যে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি কম্পিউটার রুম। অপরটিতে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা ব্যবহার করছেন। ওই কক্ষই ব্যবহূত হচ্ছে বিজ্ঞানাগার ও লাইব্রেরি হিসেবে। আর ৭ম শ্রেণির (খ) শাখার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা মাঠে পাঠ গ্রহণ করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. হক ফুয়াদ বলেন, এমনিতেই শ্রেণিকক্ষ সংকট চলছিল। তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের খুবই বিপাকে ফেলেছে। শ্রেণি শিক্ষক রণজিত মণ্ডল বলেন, বাধ্য হয়েই গাছতলায় পাঠদান করছি। দ্রুত বিষয়টি সমাধান না হলে আমাদের কঠিন সমস্যায় পড়তে হবে। ৭ম শ্রেণির (খ) শাখার শিক্ষার্থী জুলিয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিনই রোদের তাপে পুড়তে হয়। বৃষ্টি হলেই ক্লাস বন্ধ থাকে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু