শতবর্ষী আলোর বাতিঘর কুর্শা কেএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মিরপুর উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কুর্শা কেএন (কেদার নাথ) বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।

১৮৮৯ সালে এলাকার হিন্দু জমিদার কেদার নাথ জোয়ার্দার প্রায় ১০ একর জমির উপর বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। এর মধ্যে বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের দখলে আছে মাত্র তিন একর জমি। বাকি জমি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে গেছে।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে ১৯৫৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর বিদ্যালয়টি বন্ধ ছিল। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ১২৭ বছর ধরে উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন বিদ্যালয়টি আলোক বর্তিকা হিসেবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছে। বিদ্যালয়টির একই আঙ্গিনায় কেদার নাথ জোয়ার্দারের জমিতেই রয়েছে কুর্শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

১৮৮৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রথম-সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত এমই (ইংলিশ মিডিয়াম) স্কুল হিসেবে চালু করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন কেদার নাথ জোয়ার্দারের ছেলে হরিনাথ জোয়ার্দার। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কুমার দত্ত। কুমার দত্ত প্রধান শিক্ষক থাকাবস্থায় ১৯৫৬ সালে দেশ বিভাজনের সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। ২৭ বছর পর ১৯৮৩ সালে সাবদার হোসেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আবার স্কুলটি চালু করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হন জহির উদ্দিন। তিনি অবসরে গেলে ২০১১ সাল থেকে নুরুন্নবী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

এ বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাসুদ রানা ব্যাংক ম্যানেজার, হাফিজুল ইসলাম এমবিবিএস চিকিত্সক, রাজিবুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ার, মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক, রাশেদুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম ও সাহাবুব ইসলাম সহকারী পুলিশ পরিদর্শক, মোমিনুল ইসলাম বিসিএস শিক্ষা ও শরিফুল ইসলাম প্রীমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে বিদ্যালয়ের নামে থাকা উল্লেখিত বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে অনেক দেনদরবার সত্ত্বেও তা উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহন জোয়ার্দার ও প্রধান শিক্ষক মো. নুরুন্নবী জানান, ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বিদ্যালয়টি উপজেলার ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যালয়ের নানা সমস্যার মধ্যে বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার তাদের কাছে অন্যতম। তাই ইতিহাস ঐতিহ্যের এ বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ বেহাত হয়ে থাকা জমি উদ্ধার করে বিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন জনসাধারণ।

ইত্তেফাক/নূহু