ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় ২ এপ্রিল ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ আজ সোমবার এ রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেন।
এর আগে হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল।
গত ৭ নভেম্বর হাইকোর্টে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। ২২ কার্যদিবস ব্যাপী এই শুনানি চলে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, মোশাররফ হোসেন কাজল, মো. আহসানউল্লাহ প্রমুখ। শুনানিতে বিচারিক আদালতের দেয়া রায় বহালের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে ব্লগার রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ ওই হত্যার দায়ে মূল পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বীপকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর মধ্যে রানা পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন, এহসান রেজা রুম্মান, নাফিজ ইমতিয়াজ ও নাইম শিকদারকে ১০ বছর এবং সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের দণ্ড দেওয়া হয়।
রাহমানী ছাড়া বাকি সাত আসামি বেসরকারি নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই মামলার মূল হোতা বা পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল আজাদ রানা। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসামিরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
ইত্তেফাক/রাফাত