আত্মহত্যা করেছে তবুও ঘরজামাই থাকেনি!

 
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতে স্ত্রী চাপ সৃষ্টি করায় মানিক মিয়া (১৫) নামে এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
মানিক উপজেলার পাঁচথুপি-নিয়ামতিয়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। সোমবার সকাল ৬টার দিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানিকের মৃত্যু হয়।
 
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকের বয়স যখন তিন মাস, তখন তার মা-বাবা মারা যান। সেই থেকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শরায়হাজিপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম নামে এক মামার বাড়িতে বেড়ে ওঠেন মানিক। 
 
এক পর্যায়ে মানিক প্রায় ৫মাস আগে তার মামাতো বোন রোজিনা খাতুনকে (১৪) বিয়ে করেন। স্ত্রীকে নিয়ে পাঁচথুপি গ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে চায় মানিক। কিন্তু এ প্রস্তাবে মানিকের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি রাজি হয়নি। তারপরও ২৪ মার্চ সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে আনার চেষ্টা করেন মানিক। কিন্তু স্ত্রী রাজি না হওয়ায় মানিক একাই বাড়ি ফিরে বিকেল ৪টার দিকে বিষপান করেন।
 
এ সময় প্রতিবেশীরা  মানিককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানিকের মৃত্যু হয়। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে থানা পুলিশ মানিকের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
 
নিহতের স্ত্রী রোজিনা খাতুন বলেন, 'আমি বাবার বাড়ি থাকতে চেয়েছি। কিন্তু এ ঘটনা নিয়ে আমার স্বামী আত্মহত্যা হত্যা করবে, তা কখনও ভাবিনি।'
 
ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিষপানে মানিকের মৃত্যুর বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।