ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ড। খিলগাঁও আবাসিক এলাকা নিয়েই এই ওয়ার্ড। অনেক সমস্যার সমাধান হলেও প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সমস্যা।
সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এ সব সমস্যার সমাধানও করা হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, ঘরোয়া বিচার বৈঠক বসিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান মিলছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও শক্তিশালী বলে জানা গেছে।
প্রায় তিন লাখ জনসংখ্যার এ খিলগাঁও আবাসিক এলাকার ‘এ ব্লকের’ তারাবাগ, প্রভাতিবাগ, ঝিলপাড়, ইমামবাগ, তিলপাপাড়া, সি ব্লক উত্তর ও দক্ষিণ অংশ, জোড়াপুকুর খেলার মাঠ, আনসার ক্যাম্প রোড, নাদের স্মৃতি সংসদ রোড, খিলগাঁও রোড, গোড়ান রোড, সিপাহীবাগ রোড, নিউ কলোনিসহ আরো কয়েকটি ছোট ছোট এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।
সরেজমিনে নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানা গেছে। এর মধ্যে পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা, বৃষ্টি হলেই নির্দিষ্ট কিছু এলাকার রাস্তায় হাঁটু পানি ওঠা, কোনো কমিউনিটি সেন্টার না থাকা, চুরি-ছিনতাই হওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে এ আবাসিক এলাকায় যানজট, বড় রাস্তার ধারে দিনের বেলায় ও সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি করা, বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা, প্রধান সড়কের পাশের বাড়িগুলোতে অবৈধভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে ফাস্টফুডের দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খিলগাঁও আবাসিক এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগটি প্রায় ১০ বছর ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসী ও কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। এমনকি তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না ঢাকা ওয়াসা। পাকিস্তান আমলে এই এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নির্মাণ করলেও আজ পর্যন্ত এটির সংরক্ষণ বা সংস্কার করেনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। অথচ তারা এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে সঠিক সময়েই সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত ধার্যকৃত পরিমাণ অর্থ নিচ্ছেন।
প্রতিদিন দুপুরে নালায় পানির চাপ বাড়লেই সকল সড়কেই পয়ঃবর্জ্যে সয়লাব হয়ে যায়। ফলে পুরো মহল্লার পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়ে। সি ব্লকের মনোয়ার হোসেন নামের এক বাড়িওয়ালা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সি ব্লকের উত্তর ও দক্ষিণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ‘এ ব্লকের’ ১৯, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর সড়কেও সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে এলাকার সকল বাসা থেকে বের হওয়ায় কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে পুরাতন বাড়িগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়।
অনুমতি না থাকলেও খিলগাঁও এলাকায় অবৈধভাবে অনেক স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই আবাসিক বাড়িগুলোর নিচে ও কোনো কোনো স্থানে পুরো বাড়িতেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ সব অবৈধ ও অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারণে বহিরাগতরা এসে ভিড় করায় এলাকায় প্রবেশে ও বের হতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন বলেন, খিলগাঁওয়ের প্রতিটি সড়ক ও ফুটপাত যেগুলো ভাঙা ছিল তা পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। ছিনতাই ও মাদক সেবন বন্ধে সব সড়কে এলইডি বাতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে বিভিন্ন স্থানে ১৬৬টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ সব ক্যামেরা দিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা আমার অফিস থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন, কাউন্সিলর, ১ নম্বর ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
অলিগলিসহ সকল সড়ক পরিষ্কার রাখতে প্রায় ৭৫ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয়। তবে কোনো কোনো স্থানে এ সব ওষুধেও তেমন কাজ হয় না। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সংস্কার করতে ঢাকা ওয়াসাকে আমরা বারবার আবেদন জানালেও তেমন কোনো সাড়া পাইনি। বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। এ ছাড়া রাজউকের মাধ্যমে আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো সরানো সম্ভব হলে এটি হবে রাজধানীর অন্যতম আবাসিক এলাকা।
ইত্তেফাক/নূহু