রামগঞ্জে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় পাঁচ বছর যাবত্ ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। ফলে প্রতিনিয়ত রোদ, ঝড়-বৃষ্টিসহ নানা দুর্ভোগে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগরাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী ফোরকানীয়া মাদ্রাসার পরিত্যক্ত একটি কক্ষে ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে পাঠদান চলছে। একই চিত্র ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জামায়াত-শিবিরের দেওয়া আগুনে স্কুল ভবনটি পুড়ে যাওয়ার পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বারান্দায় বসিয়ে এক শ্রেণির ক্লাস শেষ হলে আরেক শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ সময় অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা বাইরে খেলা করে।
এভাবে রামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব করপাড়া, মুক্তারপুর, দক্ষিণজগতপুর, পূর্ব দরবেশপুর, ভোলাকোট, শেফালীপাড়া তরুলতা, নাগমুদ মজিদিয়া, রতনপুর কালিতলা, উত্তর হাজীপুরসহ ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ পাঁচ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়ে কেউ খোলা আকাশ নিচে, কেউ বারান্দা অথবা পাশে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু ইউছুফ জানান, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে ভবন নেই, তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই ভবনগুলোর অনুমোদন হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এমএ আউয়াল জানান, এ ব্যাপারে অবগত আছি। চলতি অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাস হয়ে ভবনগুলো হবে।
ইত্তেফাক/নূহু