মনোবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব

বিজ্ঞানের জয়যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের জয়যাত্রা সমানতালে এগিয়ে চলেছে। উন্মোচিত হয়েছে মনোবিজ্ঞানের নতুন নতুন দিক—প্রসারিত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্র। কিন্তু এ উন্নতির যুগে এসেও মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে অনেকেরই সপষ্ট ধারণা নেই। তাদের ধারণা, মনোবিজ্ঞানের কাজ শুধু মন নিয়ে এবং মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের মুখ দেখেই তার মনের কথা বলে দিতে পারেন। মনোবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে psychology। গ্রিক শব্দ psyche এবং logos থেকে psychology শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। psyche অর্থ আত্মা এবং logos শব্দটির অর্থ জ্ঞান। মনোবিজ্ঞান বলতে এমন একটি বিজ্ঞানকে বোঝায় যা মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অনুধ্যান করে। মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে দাঁড় করানোর মূলে উইলহেম উন্ড এবং উইলিয়াম জেমস অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মনোবিজ্ঞানের জন্ম মাত্র এক শ বছরের কিছু বেশি সময় আগে। হারম্যান এবিহংস, মনোবিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রদূত। বর্তমানে বিজ্ঞানকে আচরণের বিজ্ঞান বলা হয়। মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্র আজ সুদূর বিস্তৃত। গর্ভবতী মায়ের মানসিক ও শারীরিক পরিচর্যা, শিশুর যথোপযুক্ত সমাজীকরণ, সমস্যা ও হতাশায় জর্জরিত লোককে নির্দেশনা প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রয়োগ, কলকারখানায় উপযুক্ত লোক বাছাইকরণ, শ্রমিক অসন্তোষ দূরীকরণ, অপরাধ প্রবণতার কারণ নির্ধারণ ও তার প্রতিকারের পথ নির্দেশ করা, বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধির উত্স নিরুপণ ও তার প্রতিবিধান প্রভৃতি ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বর্তমান সময়ে মনোবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণ, বিষণ্ন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনেক।                            

তামান্না ইসলাম

হলিক্রস কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকা