আবর্জনা, মশা মাছির উপদ্রব

খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান, উত্তর গোড়ান, পূর্ব গোড়ান, নবাবী মোড়, দক্ষিণ বনশ্রী, হাওয়াই গলি, সিদ্দিক বাজার, শান্তিপুর, আদর্শবাগ, ৮ ও ১০ নম্বর রোড নিয়ে গঠিত দক্ষিণ সিটি কপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে ভোটার প্রায় ৭০ হাজার। বাসিন্দা প্রায় আট লাখ। গত বছরের ১ নভেম্বর এই ওয়ার্ডেকে মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে এলাকার বেশির ভাগ ফার্মেসিতে এখনো বিক্রি হয় মাদকদ্রব্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দেড় বছর পরও এলাকার অধিকাংশ সড়ক সংস্কার হয়নি। সড়কের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করেন না পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। মশার উপদ্রব, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা, খুঁটির অভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকা, বিশুদ্ধ পানি এবং বাড়িতে গ্যাসের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, এসব এলাকার বেশির ভাগ সড়কই ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা। ছাপড়া মসজিদ, ৩১ নম্বর রোড, আদর্শ স্কুল, গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড, হাওয়াই গলিতে ধুলাবালু স্তূপ হয়ে রয়েছে। নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করছেন পথচারীরা। সড়কের দুই পাশের বাসাবাড়ির দরজা-জানালায় ধুলাবালুর পুরু আবরণ জমেছে। সব সড়কেই পলিথিনসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে।

দক্ষিণ গোড়ানের হাওয়াই গলির বাসিন্দা মনোয়ার আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় প্রায় সব সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মহল্লার সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে? প্রায় এক যুগ ধরে হাওয়াই গলি থেকে ছায়াবীথি পর্যন্ত চান্দার ঝিলের ওপর ২০০ ফুটের একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন গোড়ানের বাসিন্দারা।

হাওয়াই গলির বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, বর্তমানে তার এলাকা থেকে কেউ সায়েদাবাদ যেতে চাইলে খিলগাঁও রেলফটক এলাকা ঘুরে যেতে হয়। এতে অনেক সময় ও টাকা অপচয় হয়। অথচ এই সেতুটি নির্মাণ করা হলে অর্ধেক সময়ে সায়েদাবাদ যাওয়া সম্ভব হবে।

গোড়ান ১০ নম্বর রোডের বাসিন্দা নিয়াজ হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই ১০ নম্বর রোডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমনিতে সারা বছর নালার পানি উপচে সড়কে পড়ে। নালার এই নোংরা পানি থেকেই প্রচুর মশা জন্মায়। মশার ওষুধ নিয়মিত দেওয়া হয় না।

গত ৯ অক্টোবর দক্ষিণ গোড়ানে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ওই অনুষ্ঠানে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ নভেম্বর থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু এখনো এই এলাকার অধিকাংশ ফার্মেসি ও অলিগলিতে মাদক বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিদ্দিক বাজারের বাসিন্দা রুহুল আমীন বলেন, মেয়র ঘোষণা দেওয়ার পরও কোনো ফার্মেসিতে অভিযান চালায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে আগের মতোই ফার্মেসিগুলোতে মাদক বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় অনেক মাদক ব্যবসায়ী সন্ধ্যার পরই গলির সড়কগুলোতে মাদক বিক্রি করেন। মাদকসেবীদের দলে তরুণেরাও রয়েছেন।

কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাসে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। শিগগিরই আরও ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে। তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নিজ উদ্যোগে প্রায় ২০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা দিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০ শতাংশ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়। ফলে কাউকে মাদক সেবন বা বিক্রি করতে দেখলে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। বর্তমানে আমার এলাকায় মাদক বিক্রি নেই বললেই চলে।

ইত্তেফাক/নূহু