গোপালগঞ্জে বারুণী স্নানোত্সব শুরু

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

আজ থেকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীধাম ওড়াকান্দির ২শ ৭ বছরের স্নানোত্সব ও পাঁচ দিনব্যাপী মহাবারুণীর মেলা শুরু হচ্ছে।  শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২শ ৭তম জন্মতিথি উপলক্ষে এ স্নানোত্সব ও বারুণীর মেলা।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মেলায় লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় শ্রীধাম ওড়াকান্দির গদিনসীন ঠাকুর ও মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতির নেতৃত্বে ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বারুণী সাগরে ও পরে কামনা সাগরে স্নান করে এ স্নানোত্সবের শুভ সূচনা করবেন। ধর্মীয় প্রথায় ওড়াকান্দির হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ মন্দিরে পুরোহিতরা পূজা-অর্চনা শুরু করবেন। তারপর বিরামহীনভাবে বুধবার রাত পর্যন্ত চলতে থাকবে পুণ্যার্থীদের স্নানের পালা। হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথির শুভ মুহূর্তে এ স্নান শুরু হয় আর চলে তিথি শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

মতুয়া ভক্তরা তাদের পুণ্য লাভের আশায় লাখ লাখ লোক এ স্নানোত্সবে অংশ নেয়। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এটি। পরিণত হয় মহামিলন মেলায়। কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুব্রত ঠাকুর হিল্টু বলেন, ২শ বছরের পুরানো এ স্নানোত্সবে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। স্নানোত্সব সফল করতে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

কাশিয়ানী থাকার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, স্নানোত্সবে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

রামগড়ে বারুণী স্নানোত্সব

 রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, রামগড় সাব্রুম সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে আজ থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বারুণী স্নানোত্সব। ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নানোত্সব ঘিরে বাংলাদেশের রামগড় ও ভারতের সাব্রুম সীমান্তে ফেনী নদী পরিণত হয় দু’দেশের মানুষের মিলন মেলায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয় দেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম জনস্রোতে পরিণত হয়।

অবাধ পারাপারের সুযোগে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা ভারতে অনুপ্রবেশ করতে পারে এমন আশঙ্কায় সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সীমান্তে। ফলে গত বছরের মতো এবারও বারুণী মেলা উপলক্ষে সীমান্ত পারাপারের কোনো সুযোগ দেবে না বিজিবি-বিএসএফ।

ব্রিটিশ আমল থেকেই চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশি তিথিতে প্রতিবছর ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে মিলিত হন দুই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। স্নানোত্সব হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এখন তা সার্বজনীন উত্সবে পরিণত হয়েছে। দুই দেশে অবস্থানকারী আত্মীয়-স্বজনদের দেখা সাক্ষাত্ করার জন্যও অনেকে দূর দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী মেলা উপলক্ষে দেশ স্বাধীনের পর থেকে এদিনে দুদেশের সীমান্ত অঘোষিতভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকার সুবাদে এপার বাংলার মানুষ ছুটে যায় ওপারের সাব্রুম মহকুমা শহরে, আবার ওপারের লোক এসে ঘুরে যান রামগড়।

কিন্তু গত বছর পারাপারের এ সুযোগ বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে ওপারে অনুপ্রবেশ করতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা গত বছর সীমান্ত পারাপার কঠোরভাবে প্রতিহত করে। ফলে রামগড় ও ওপারের সাব্রুমে মেলায় যোগ দিতে আসা লক্ষাধিক মানুষকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। বিজিবির রামগড়স্থ ৪৩ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষও বারুণী মেলা উপলক্ষে সীমান্ত পারাপার বন্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রামগড় কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির প্রধান পুরোহিত মৃদুল চক্রবর্তী জানান, এবছর মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত বারুণী স্নান করা যাবে।