গেণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জাকির হোসেন (৩৫) নামে এক কাঁসা-পিতল ব্যবসায়ীকে নিজ বাড়ির সামনে রাস্তায় শত শত মানুষের সামনে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বেলা ১২টার দিকে স্বামীবাগের ১৯/৩/বি নম্বর সাত তলা বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। মুখোশ ও মাথায় ক্যাপ পরিহিত চার অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত ধাওয়া করে জাকিরকে আটক করে গুলি করে। তার মাথা ও বুকে দুটি গুলি লেগেছে। জাকির হোসেন তার বাড়ির নিচতলায় জাকির এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কাঁসা-পিতলের পাইকারি দোকানের মালিক। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল ঘটনার আগে তিনি বাড়ির তৃতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় মানিকগঞ্জ থেকে আগত কাঁসা-পিতল ব্যবসায়ী দ্বীন ইসলাম ব্যবসায়িক লেনদেনের ৫০ হাজার টাকার চেক দিতে আসেন। মোবাইল ফোনে কথা বলার পর জাকির বাড়ি থেকে বের হন। তাকে নিয়ে পাশের একটি ব্যাংকে গিয়ে চেকটি জমা দেন। দ্বীন ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সামনে আসার পরই দু’জন মুখোশধারী পিস্তল হাতে নিয়ে তার দিকে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী দ্বীন ইসলাম বলেন, তিনি তখন ঘটনাস্থলের পাশেই ছিলেন। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তার সামনেই জাকির হোসেনকে গুলি করে। তখন আশ-পাশে আরো অনেক লোক ছিল। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ভয়ে তারা কেউই এগিয়ে আসেননি। প্রথম দফায় দুই অস্ত্রধারীর ধাওয়ায় জাকির তার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় বিপরীত দিক থেকে আরো দুই অস্ত্রধারী যুবক তাকে (জাকির) জাপটে ধরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। জাকির পড়ে       গেলে তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে আরেক দফা গুলি করে সন্ত্রাসীরা পাশের গলি দিয়ে দৌড় দেয়। এসময় আশ-পাশের লোকজন সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে পশ্চিম দিকের রেললাইনের দিকে পালিয়ে যায়।

নিহত জাকিরের বাবার নাম এনামুল হক। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে জাকির দ্বিতীয়। তার স্ত্রীর নাম হূদয় বেগম। তিন বছর বয়সী মুসকান নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া গ্রামে।

নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, জানামতে, জাকিরের কোনো শত্রু ছিল না। পিতল, তামা ও কয়লার পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন। এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। তবে বর্তমানে ব্যবসার বাইরে অন্য কিছু করতেন না। ঘটনায় স্থানীয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকতে পারে। কয়েকদিন আগে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ চাঁদার দাবিতে তাকে হুমকি দিয়েছিল।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, এঘটনার পর নিহতের স্বজনসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু