আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী সিনথিয়া আবারও দেশসেরা

আবারও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্র শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেছে। কলাকেন্দ্রের ছোট্ট শিক্ষার্থী সিনথিয়া এবার জাতীয় শিক্ষা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে একক অভিনয়ে দেশসেরার খেতাব নিয়ে ঘরে ফিরেছে।  

জানা গেছে, সিনথিয়া রহমান আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ভোদুয়ার সাইদুর রহমান ও নার্গিস পারভীনের কন্যা। সে আলমডাঙ্গা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।

লেখাপড়ার পাশাপাশি আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রে সঙ্গীত, নৃত্য ও অভিনয় শিখছে মেধাবি  সিনথিয়া। উস্তাদ সেলিম হোসেনের নিকট সঙ্গীত ও নৃত্য এবং রেবা রানী সাহার নিকট একক অভিনয়ে তালিম গ্রহণ করছে সে। তবলাসহ বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষক সুশীল কর্মকার তাকে গানে তালিম দেন।

এবছর অনুষ্ঠিত আন্তঃপ্রাথমিক জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ’১৭ –তে অংশ নিয়ে একক অভিনয়ে সে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রত্যেকটিতে ১ম স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করেন।

গত ২৮ মার্চ ঢাকা মিরপুর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অডিটরিয়ামে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিযোগিতায় সিনথিয়া সারা জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। ওই দিনই বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃত স্বরূপ সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রাক্তন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার চৌধুরী।

উল্লেখ্য, পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সিনথিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে দেশসেরাদের পুরষ্কৃত করবেন বলে জানা গেছে।  

সিনথিয়া এ বছর জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল ক বিভাগে। গত ১৮ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত যথাক্রমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পল্লিগীতিতে ১ম স্থান অর্জন করে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ছিল বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। যশোর জেলা স্কুলে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সিনথিয়া পল্লিগীতি গেয়ে ১ম স্থান অধিকার করে। আগামি এপ্রিল মাসের ১ম সপ্তায় ঢাকাতে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সিনথিয়া দেশসেরার আর একটা খেতাব ছিনিয়ে নিতে অনুশীলনে ব্যস্ত। কলাকেন্দ্রের ২ কর্ণধার ইকবাল হোসেন ও রেবা সাহা অপত্য স্নেহে তাকে সঙ্গীতে তালিম দিচ্ছেন।

শুধু জেলায় নয়, আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্র বিভাগের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ কলাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে চলেছে। ইতিপূর্বে কলাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী রজনী খাতুন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পুরষ্কার প্রতিযোগিতা’১৬ –তে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩য় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নিয়ে ঘরে ফেরে। এছাড়া বিটিভি’র রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় রজনী খাতুন সারাদেশে লালনগীতিতে ২য় ও নজরুলসঙ্গীতে ৩য় হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

গত বছর বিটিভি’র রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় রজনী খাতুন সারাদেশে লালনগীতিতে ২য় ও নজরুলসঙ্গীতে ৩য় হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আগের বছর আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রের শিক্ষার্থি তমা বিশ্বাস জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় দেশসেরা হয়ে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের হাত থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেছেন।

কলাকেন্দ্রের আরেক ছাত্রী ঝর্ণা খাতুন একই প্রতিযোগিতায় ভাব সঙ্গীতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ১ম স্থান ও খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে ২য় স্থান অধিকার করে। তাছাড়া কলাকেন্দ্রের শিক্ষার্থি পিংকী সম্প্রতি বিটিভি’র নিয়োমিত তালিকাভূক্ত নৃত্যশিল্পী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছে। ২০০৭ সালে বৈশাখী টেলিভিশন আয়োজিত পদ্মকুঁড়ি
প্রতিযোগিতায় সারা দেশে প্রথম হয়েছিল এ কলাকেন্দ্রের সাবেক শিক্ষার্থি কৃপা। কৃপা বর্তমানে স্কলারশীপ নিয়ে জাপানে নাচের ওপর ধ্রুপদী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু