ভক্তরা তাকে ডাকে ‘ক্রিকেট ইশ্বর’ হিসেবে। ক্রিকেট মাঠের ২২ গজে অবিস্মরণীয় সব কীর্তি গড়েছেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে তার প্রভাব নিয়েও নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু এবার অন্য ভূমিকায় দেখা যাবে শচীন টেন্ডুলকারকে। তিনি এবার গান গাইবেন।
শচীনের শখ হিসেবে খাবার, গাড়ি ও রান্না করার কথা জানা গেলেও লিটল মাস্টারের যে গানের গলাও বেশ ভালো সেটা ভক্তদের জানা ছিল না। গানের দুনিয়ায় আপাতত তার সঙ্গী সোনু নিগম। একসঙ্গে দুজনে গাইবেন। গানের বিষয় হল ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়।
সেই বিশ্বকাপের সময় শচীনের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। ভারতের ওই বিশ্বকাপ জয়টাই নাকি দারুণ এক ছাপ ফেলে মাস্টার ব্লাস্টারের জীবনে। ছোটবেলায় ক্রিকেট অনেকেই খেলেন। তিনিও খেলতেন। কিন্তু বিশ্বজয়ের পরেই মনে হল, আমি ক্রিকেটার হব। শচীন বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে মাঝে মাঝেই তুলে এনেছেন এই প্রসঙ্গ। তখন থেকেই কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কাররা যেন একেকজন স্বপ্নের চরিত্র। তাদের অনেকের সঙ্গেই পরে একসঙ্গে খেলেছেন।
So what exactly is @sonunigam doing with a bat? And who is the other guy? is it @sachin_rt ?
— Noyon Jyoti Parasara (@NoyonSENSE) March 29, 2017
What this mystery project? pic.twitter.com/6fZ7AeHznp
বৃহস্পতিবার শচীনের ডিজিটাল প্লাটফরম ‘১০০ এমবি’ এর প্রকাশ উপলক্ষে নতুন গানটি রেকর্ড করা হয়। ‘গেন্দ আয়ি, বাল্লা ঘুমা...মার ছাক্কা শচীন শচীন.... নাচো নাচো সব ক্রিকেট ওয়ালি বিট পে।’ শিরোনামে গানটিতে শচীনের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী সনু নিগম।
সঙ্গীত নিয়ে নিজের প্রচণ্ড অনুরাগের কথা জানিয়ে শচীন বলেন, সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা সবসময় ছিল। সঙ্গীত আপনাকে ব্যাট করতে যাওয়ার আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, ইনিংস শেষে ভালো সঙ্গীত আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে।
লিটল মাস্টার বলেন, বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত শুনতে আমি পছন্দ করি। এমনকি স্প্যানিশ ভাষা না বুঝলেও আমি স্প্যানিশ গান শুনি। নতুন পুরোনো হিন্দি গান, রক গান যাই কানের জন্য সহনীয় সবই শুনি।
Welcome to the start of my Digital Innings! Download 100MB Now @AppStore #AppStore #100MB #digitalinningshttps://t.co/jIoKVw6rUp pic.twitter.com/MUkjmTcCt7
— sachin tendulkar (@sachin_rt) March 30, 2017
সম্প্রতি শচীন একটি অনুষ্ঠানে ওস্তাদ জাকির হুসাইনের সঙ্গে এক মঞ্চে তবলাও বাজিয়ে দেখিয়েছেন।
ছয়টি বিশ্বকাপে যেসব ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লাজুক টেন্ডুলকার বলেন, গান গাওয়ার কাজটি সম্ভব হয়ে স্ত্রী, বন্ধুবান্ধবের জন্য। তারা সবাই জোর করেই আমাকে গানে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে।
টেন্ডুলকারের সঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে সোনু নিগম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পী সঠিক পিচে গান না গাইতে পারলেও মাস্টারক্লাস শচীন টেন্ডুলকারের গানের ক্ষেত্রে কোন পিচ কারেক্টরও ব্যবহার করতে হয় নি। তিনি খুব অনায়াসেই গানটি গেয়েছেন।
জানা গেছে, একটি টেন্ডুলকারের নিজস্ব অ্যাপে গানটি রোববার রাত ১০ টায় প্রকাশ করা হবে। টেন্ডুলকার বলেন, ডিজিটাল প্লাটফরমটিতে তাঁর জীবনের অন্য রুপটি দেখ যাবে। অপেক্ষা করুন নতুন নতুন চমক আসছে। হিন্দুস্তান টাইমস।
ইত্তেফাক/রেজা