বরিশাল ভার্সিটির ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আল্টিমেটাম

চলমান আন্দোলনের গতকাল সপ্তমদিনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হকের পদত্যাগ দাবি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর ২৫টি অভিযোগ উল্লেখ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে প্রায় এক ঘন্টা বিক্ষোভ করেন।

স্মারকলিপিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হকের অপসারণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্মারকলিপিতে জাতীয় দিবসগুলো (১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ)’র অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত না করা এবং এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটূক্তি করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে ২৫টি পয়েন্টে ভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নির্দিষ্ট আকারে তুলে ধরা হয়েছে। যারমধ্যে অর্থ আত্মসাত, অবৈধভাবে পদোন্নতি, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর জরিমানাসহ বিভিন্ন অযুহাতে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচির ও সবুজায়ন না করা ইত্যাদি।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান শিক্ষার্থীদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে মৌখিকভাবে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান করবেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভিসি শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটূুক্তি করেননি বলে দাবি করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড রাজাকার সাদৃশ। আমাদের প্রশ্ন রাজাকার সাদৃশ, রাজাকারের পক্ষের শক্তি ও রাজাকারের মধ্যে পার্থক্য কি? এরআগেও দুইবার বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবীর বিষয়ে কোন সুরাহা না হলে আমরণ অনশনসহ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে আরও কঠোর কর্মসূচিতে পরিনত করা হবে।