জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেমদের সোচ্চার হতে হবে: হাছান মাহমুদ

ওয়াজ মাহফিলে এবং জুমার নামাজের আগে খুতবায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবস্থান তুলে ধরার জন্য দেশের সকল আলেম ওলামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ৷ 
 
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও গণহত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান৷ 
 
হাছান মাহমুদ বলেন, যারা জঙ্গিবাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন তাদের বিরুদ্ধেও সকলকে সচেতন থাকতে হবে৷ শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করেই জঙ্গি দমন সম্ভব নয়৷ এ জন্য দেশের সকল স্থানে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আলেম ওলামাদেরকে তরুণ প্রজন্মের প্রতি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে হবে৷
 
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটা বর্তমানে একটি বিশ্বব্যাপী সমস্য৷ যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য এবং বেলজিয়ামসহ সারা পৃথিবীতেই জঙ্গি হামলা হচ্ছে৷ পার্থক্য শুধু অন্যান্য দেশে হামলা হলে সবাই সরকারকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে, আর আমাদের দেশের সেটা না করে উল্টো সরকারের সমালোচনা করে৷
 
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আশপাশে এবং ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যারা রয়েছে তারা সকলেই জঙ্গি৷ এমনকি তারা আফগানিস্তান থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত৷ বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করে জঙ্গি দমনের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ঠিক তার পরের দিন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন তাদের অবস্থান জঙ্গিদের বিপক্ষে৷
 
এ পর্যন্ত যতগুলো জঙ্গিবিরোধী অভিযান সরকার পরিচালনা করছে এবং সেখানে যত জঙ্গি নিহত হয়েছে সেসব জঙ্গিদের লাশ পর্যন্ত তাদের পরিবার নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে৷ অথচ বিএনপি তারাই আবার জঙ্গিদের হত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে৷ তাদের জঙ্গিপ্রীতি থেকেই বোঝা যায় বিএনপির সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে৷
 
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য খন্দকার গোলাম মাওলা নকশবন্দির সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম এ সাত্তার, আম জনতা খেলাফত পার্টির চেয়ারম্যান অ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি শহিদুল্লাহ এবং ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি এম এ ভাসানী ।