দ্বি-পাক্ষিক সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বিপাক্ষিক সফরে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা করবেন ড. মোমেন। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো বাড়ানো এবং কূটনৈতিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ড. মোমেন। ধারাবাহিক সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তিনি মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্যই ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। জানুয়ারির শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আসীন হবার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ড. মোমেনকে অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। পম্পেওর আমন্ত্রণেই ওয়াশিংটন যাচ্ছেন ড. মোমেন। কর্মসূচি অনুযায়ী ৬ এপ্রিল তিনি ওয়াশিংটন রওনা হবেন এবং ১২ এপ্রিল সফর শেষে ফিরে আসবেন। ৮ এপ্রিল মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা- ইউএসএইড-এর প্রশাসক মার্ক এন্ডু গ্রিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইউএসএইড প্রশাসক মন্ত্রীর মর্যাদার। মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটর একাধিক সদস্য হোয়াইট হাউজের উপযুক্ত পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।   এছাড়া ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সংবর্ধনায় যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে ড. মোমেনের প্রথম ওয়াশিংটন সফরে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গার ইসুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে। যা বৈশ্বিক সহায়তার ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র যা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি। জ্বালানি খাতে আরো বিনিয়োগ হবে। দুই দেশের বাণিজ্য সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি। বাণিজ্য আরো বাড়ানোর উপায় খুঁজছে দুই দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের পক্ষে বড় দাবি। খুনি রাশেদ চৌধুরী ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তাকে হস্তান্তর করাতে আলোচনা করবেন ড. মোমেন। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্য দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক। এই সহযোগিতা আরো বাড়ানো হবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মার্কিন সরকারের সঙ্গে পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি আরো নতুন মাত্রার সম্পর্ক তৈরি হবে বলে আশা করছে কূটনৈতিক মহল। পাশাপাশি বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি, ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচন নিয়ে মার্কিন বক্তব্য ও অবস্থানের বিপরীতে নিজস্ব পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে।