মিরপুরে ঝুট কাপড়ের দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

মিরপুর সেকশন-১০-এর ব্লক এ, বি, সি এবং মিরপুর-১১-এর ব্লক সি ও মেহেদিবাগ নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড। আয়তন ১ দশমিক ১০১ বর্গকিলোমিটার। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৬২ হাজার ৫৫২। বসবাস লক্ষাধিক মানুষের। এই ওয়ার্ডে রয়েছে ৯টি বিহারি ক্যাম্প ও ১২টি বস্তি। এখানকার বাসিন্দারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। নিরাপত্তাহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করছেন।

কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, এখনো আমার ওয়ার্ডে ৬০ ভাগ রাস্তা উন্নয়ন কাজ করার বাকি আছে। দেড় বছরের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের দিক দিয়ে ঢাকার মধ্যে আমার ওয়ার্ড হবে সেরা। তিনি বলেন, ওয়ার্ডে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক। চাঁদাবাজি, দখলবাজি নেই। এমন কি রাজনৈতিক চাঁদাবাজিও নেই। পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করেছি। ছাদ বাগানে চারা বিতরণ করেছি। ছাদ ও বেলকনিতে বাগান করার জন্য একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। এজন্য আমরা ২২ জন নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কাউন্সিলর বলেন, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, গাছ লাগানো ও জঙ্গি সমস্যা সমাধানে আমাদের ২২টি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের বয়ানের মাধ্যমে জনসচেতনতার কাজ অব্যাহত রেখেছি।

মিরপুরে রয়েছে অসংখ্য তৈরি পোশাকের কারখানা। এসব কারখানার ‘ঝুট’ নামে পরিচিত ছাঁট কাপড়ের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে। অ্যাভিনিউ-১ সড়কটি ‘ঝুটপট্টি’ নামে পরিচিত। সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা দোকানের মালপত্র রাখা হয়েছে ফুটপাতজুড়ে। সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নষ্ট কাপড়। যা থেকে ছড়ায় দুর্গন্ধ।

দেড় বছর আগেও মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে নির্মাণাধীন সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে চার সড়কের সংযোগস্থলটি দুর্গন্ধময় আবর্জনা ও পানিতে ডুবে থাকত। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরেই সড়কটি সংস্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব মিলন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সড়কের দুই পাশের হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হয়। নির্বাচনের আগে এখানে কালভার্ট নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও অবস্থা বদলায়নি। দেখা যায়, বি-ব্লকের ফকিরবাড়ি লেনের সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক পাশ থেকে শুরু করে আবু তালেব বিদ্যালয়ের সীমানার কাছাকাছি পর্যন্ত সড়কের একপাশে সারি সারি দোকান। শাক-সবজি, মাছ, মুরগি, গরুর মাংস, ফলমূল সবকিছুর দোকানই আছে এই কাঁচাবাজারে।

দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই বাজারটি সড়কের অনেকাংশ জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর সিটির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সময় বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়। অবশ্য কয়েকদিন পরেই ফের বাজার বসেছে।

মিরপুর-১০ নম্বর অ্যাভিনিউ-৫ থেকে জল্লাদখানা মোড়ে আসার সড়কটি ভাঙাচোরা। এর চেয়েও বড় সমস্যা সড়কের মাঝদিয়ে চলে যাওয়া পানি নিষ্কাশনের নালা। নালাটির ওপরে কোনো স্ল্যাব বা কালভার্ট না থাকায় সড়কের দুই পাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

(আগামীকাল ঢাকা উত্তর সিটির ওয়ার্ড-৪)

ইত্তেফাক/নূহু