গাজীপুরে উত্তরা ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রোগ্রামের ছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলার রায়ে ৩ জনের ফাঁসি এবং ১ নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ দিকে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ একেএম এনামুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে রায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত নারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন টাঙ্গাইল জেলা গোপালপুর থানার জামতৈল এলাকার মো. আব্দুস ছামাদ মাস্টারের ছেলে মো. রেজাউল করিম ওরফে সাগর (৩১), জামালপুরের মোহনপুর এলাকার মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (৩৫), মৌলভীবাজারের বেকামোড়া এলাকার মো. ইয়াবর মিয়ার ছেলে মো. শাহাব উদ্দিন (২৫) ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হল জামালপুরের মেলান্দহ থানার বল্লভপুর এলাকার আ. ছামাদ মণ্ডলের মেয়ে সানজিদা আক্তার লিপি (২৮)।
গাজীপুর জজ কোর্টের পিপি হারিছউদ্দিন আহম্মদ জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ থানার নবীপুর এলাকার প্রবাসী খাজা মাইন উদ্দিনের ছেলে উত্তরা ইউনিভার্সিটির বিবিএ-এর ছাত্র মো. আবদুর রহমান ওরফে রিয়াদ (২৭) টঙ্গীর চেরাগাআলী মাতাব্বর রোডে বাসায় ভাড়া থাকতো। সে সময় আসামি সানজিদা আক্তার লিপি ও রিয়াদ একই সঙ্গে এসএম মাতুল কোচিং করতো। এ কারণে রিয়াদের সাথে সানজিদার জানাশুনা ও ঘনিষ্ঠতার সৃষ্টি হয়।
গত ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই বিকেলে সানজিদা চাকুরী দেয়ার কথা বলে রিয়াদকে ডেকে নিয়ে তার স্বামী রেজাউল করিম ওরফে সাগরের হাতে তুলে দেয়। এর পর গত ২৫ জুলাই রাতে রিয়াদের পিতা প্রবাসী খাজা মইন উদ্দিনের নিকট রেজাউল করিম সাগর টেলিফোনে জানায়, আপনার ছেলে রিয়াদ আমাদের কাছে আছে। আইনের আশ্রয় নিলে রিয়াদকে মেরে ফেলা হবে। পরবর্তীতে সাগর ২৭ জুলাই রিয়াদের বাবা নিকট টেলিফোনে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ২৮ জুলাই সাগর এসএমএস করে রিয়াদের বাবার কাছে বলে উল্লেখিত তারিখের মধ্যে ৫ লাখ টাকা না দিলে রিয়াদের কান কেটে ফেলা হবে।
এ দিকে রিয়াদের ফুপাত ভাই অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. জাকির হোসেন রিয়াদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই টঙ্গী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি র্যাব-১ কে অবহিত করা হয়। পরে র্যাব সদস্যরা মোবাইল ট্র্যাকিং করে পর্যায়ক্রমে আসামি রেজাউল করিম ওরফে সাগর, সানজিদা আক্তার লিপি, মো. শাহাব উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। সে সময় আসামি শাহাবউদ্দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট স্বীকার করে যে, জামালপুরে রিয়াদকে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করে এক গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
আসামি শাহাব উদ্দিন আরো জানায়, আসামি রেজাউল করিম, জামাল উদ্দিনসহ তিনজন মিলে এ ঘটনাটি ঘটায়। আঞ্জুমানে মফিদুল জামালপুর রিয়াদের মৃত দেহ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করলে এর ৩৬দিন পর কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে রিয়াদের মৃতদেহের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত জামালপুরে সম্পন্ন করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান ২০১৬ সালের ২৬ জুন অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত শুনানির পর এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট হারিছউদ্দিন আহম্মদ এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. ওয়াহিদুজ্জামান আকন (তমিজ) ও মো. আব্দুল জলিল।
ইত্তেফাক/রাফাত