বাইশটেকিবাসীর দুঃখ বেদখল ষাট ফুট খাল

মিরপুরের সেকশন ১৩, ১৪, পশ্চিম বাইশটেকি, পূর্ব বাইশটেকি, ১৩ নম্বর টিনশেড কলোনি, ১৪-বিওডি টিনশেড কলোনি এবং ১৪ নম্বর স্টাফ কোয়ার্টার নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ৫০ হাজার ৫৫৬ জন। তাদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যাই বেশি। এই ওয়ার্ডের দুঃখ ষাট ফুট খাল। এটি জরুরি উদ্ধার করে সচল করতে হবে। এই ওয়ার্ডের খালটি সচল না রাখলে মিরপুর, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী ও তুরাগ থানার কিছু অংশ কঠিন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা বলেন, পূর্বে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন, দক্ষিণে ইব্রাহিমপুর সেনপাড়া, পশ্চিমে ১০নং সেকশন উত্তরে পলাশ নগর। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কমিউনিটি সেন্টার আছে। তিনি নিজেই কমিউনিটি সেন্টারের জমি বরাদ্দ নেন। প্রায় ১৫ কাঠার জমির উপর চারতলা ভবনে এটি প্রতিষ্ঠা করেন নিজেই।

এই ওয়ার্ড এলাকায় সরকারি ডেন্টাল কলেজ, আয়ুর্বেদী ডিগ্রি কলেজ, প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কলাস্টিকা, হারমাইন মেইনার স্কুল এন্ড কলেজ, বনফুল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাজী আলী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, এসওএস যুব পল্লি, মিরপুর মডেল ডিগ্রি কলেজ রয়েছে।

কাউন্সিলর বলেন, তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এই ওয়ার্ডে ৮০ ভাগ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই এলাকার রাস্তাঘাট উন্নত। গত দেড় বছরে ৬০ ভাগ উন্নয়ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে রাস্তায় উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই এলাকায় পানি ও বিদ্যুত্ সমস্যা নেই। তবে কিছু এলাকায় গ্যাসের সমস্যা আছে। মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক সামাজিক ব্যাধি। ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কোনো মাদক স্পট নেই। তবে ভাসমান মাদক আছে। এই ওয়ার্ডের ফুটপাতের রাস্তায় হকার আছে। তাদের একদিকে উচ্ছেদ করলে আরেক দিকে বসে। এদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা বলেন, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। চাঁদাবাজি নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বড় সমস্যা ছিল মাদক। পুলিশের অভিযানের কারণে মাদক কমেছে। কমিউনিটি পুলিশিং আছে। তবে আশপাশের ওয়ার্ড থেকে এই ওয়ার্ড এলাকায় মাদক আসে বলে তিনি জানালেন। তিনি বলেন, জরুরি ৬০ ফুট খাল উদ্ধার করে সচল না করলে মিরপুর, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, পল্ল­বী ও তুরাগ থানার কিছু অংশে কঠিন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। খালটি উদ্ধার করে দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে করে দেওয়ার জন্য দাবি জানান এলাকাবাসী। ওয়াকওয়েতে গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা যাবে। স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ চলছে। তবে খালের কারণে সমস্যা হবে।

কাউন্সিলর বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সিটি করপোরেশনের কোনো কাঁচাবাজার নেই। ফুটপাত দখল আছে। এছাড়াও কোনো শিশুপার্ক নেই। জবাইখানাও নেই। সিটি করপোরেশনের বাজার, কসাইখানা, শিশুপার্ক ও খেলার মাঠ করতে হবে। তাহলে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে উঠবে। মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস মুক্তের জন্য কাউন্সিলর এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন।

ইত্তেফাক/নূহু