বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও দলটির অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি তাদের শাসনামলে ভারত থেকে কোন কিছু তো আদায় করতে পারেনি উপরন্তু ভারতের কাছে নতজানু ছিল। আর ক্ষমতায় না থাকলে সব সময়ই ভারতবিরোধী নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা হয়েছে কেবল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমেই।
শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০ দলীয় জোট ছেড়ে আসা জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) আয়োজনে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই আওয়ামী লীগ সরকার নিজ দেশের স্বার্থ আদায়ে বিশ্বাসী। ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যার সমাধান, গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায় সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব ও দূরদর্শীতা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে। আওয়ামী সরকারই পেরেছে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমুদ্রসীমা অর্জন করতে। ৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরার চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত সমস্যার সমাধান, ৪৫ বছর পরে ছিটমহলে বিনিময় চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার সীমান্তের হাজার হাজার মানুষকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের জাতীয়তা এবং বাংলাদেশ পেয়েছে ছিটমহলে তাদের সার্বভৌমত্ব।
অপরদিকে বিএনপি নেত্রী দিল্লীতে গিয়ে গঙ্গা চুক্তি করার কথা তো দূরে কথা তিনি আলোচনা করতেই ভুলে গিয়েছিলেন। বিএনপির শাসনামলে তারা অমীমাংসিত সমুদ্রসীমার সমাধানের কথা ভারতের সঙ্গে আলোচনাই করেননি। মুখে কুলুপ এটে ছিলেন। আজকে যখন আওয়ামী লীগ সরকারের একেরপর এক অর্জন করছে তখন তারা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে সমালোচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ আরো বলেন, এ সফরে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ফ্রেমওয়ার্ক (সমঝোতা স্মারক) হবে। কিন্তু বিএনপি এটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পায়তারা করছে। পাকিস্তান বাদে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গেও এ ধরনের সমঝোতা স্মারক আছে। এতোদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে যে এ সমঝোতা হয়নি বরং এটিই অস্বাভাবিক। তাই আমি বিএনপিকে অনুরোধ করবো শেখ হাসিনার সমালোচনা না করে ক্ষমতায় থেকেও ভারত থেকে কিছু আদায় না করতে পারার জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করুন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
ইত্তেফাক/ইউবি