ভারতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার। বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের সঙ্গে এই সহজ সমীকরণ বজায় রাখতে চান, কারণ বাংলাদেশের দিকে চায়নার ‘চেকবুক’ কূটনীতি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর খুব গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে ও তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলছে। আগামী ২০১৮ সালের নির্বাচনকে লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করার উপায় বের করতে তারা এই সফরের দুর্বল দিক খোঁজার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভারত ‘ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে সবসময় একটা ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে দলটি।
ভারতীয় অনলাইন গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানান।
এটা এখন জানা যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানর্জীর একগুঁয়েমির কারণ তিস্তা চুক্তি এখনো ঝুলে আছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েক সপ্তাহ আগেই বলেছেন, তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই ভারত সফরের কোনই অর্থ নেই।
এদিকে শেখ হাসিনার জন্য নরেন্দ্র মোদীর দেয়া নৈশ্যভোজে মমতা ব্যানার্জী দিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন। আশা করা হচ্ছে তিস্তা পানি বন্টন নিয়ে সেই সময় তিন শীর্ষ নেতার কিছুটা আলাপ আলোচনা হতে পারে। যখন কেউ এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছিলেন না তখন এই সুযোগ কিছুটা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচোন করেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, যার সঙ্গে মমতা ও হাসিনা দুজনের সঙ্গেই দারুণ সখ্যতা রয়েছে তিনিও তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে মমতাকে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/রেজা