রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা গ্রহণের মাধ্যমে চারদিনের ভারত সফরে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেয়।
সকাল নয়টার দিকে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের অশ্বারোহী দল শেখ হাসিনার গাড়ি পাহারা দিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রাজঘাটে যান। সেখানে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন এবং কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক, সচিবগণ ও দেশের বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।
শোক বইতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত। মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ এশিয়াসহ সারাবিশ্বের মুক্তিকামী জনগণের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলন আমাদের মহান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অনুপ্রাণিত করেছে। মহাত্মার আদর্শ অনাগত ভবিষতের সকালের জন্য অনুকরণীয় হতে থাকবে।
শুক্রবার ভারতীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘আকাশ প্রদীপ’ নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখানে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর কথা ছিল ভারতের হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড পাবলিক এন্টারপ্রাইজ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর। কিন্তু সবাইকে অবাক করে প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজির হন নরেন্দ্র মোদী। বিমানের গেটে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ ঘটনাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে ‘একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি উষ্ণ অভ্যর্থনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।