দুয়ারিপাড়ায় ভাঙা সড়ক অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

মিরপুর সেকশন-৬, সেকশন-৭, রূপনগর টিনশেড, দুয়ারিপাড়া, পল্লবী ওয়াপদা কলোনি, আলবদী ও আরামবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে দেড় লাখেরও বেশি নাগরিক বসবাস করলেও ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৫১১। বসবাসকারী অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণির। এই এলাকায় প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার অলি-গলির রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া মশার উপদ্রব ও ভাঙা রাস্তা তো রয়েছেই।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সড়ক ভাঙাচোরা। মূল সড়কগুলোর পাশাপাশি এলাকার ভেতরের বিভিন্ন সড়ক খানাখন্দে ভরা। সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় ওয়ার্ডজুড়ে উড়ছে ধুলা। রূপনগর টিনশেড এলাকায় ১ থেকে ১৬ নম্বর পর্যন্ত প্রতিটি সড়কই চলাচলের অনুপযোগী। টিনশেড এলাকার বাসিন্দা জিলফুল মুরাদ বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই বড় বড় কথা বলে। দু বছর হতে চলল, একটা সড়কও ঠিক হলো না।

মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ডি-ব্লক মোড়ে ছড়ানো-ছিটানো আবর্জনা। পাশাপাশি কতকগুলো ময়লার কনটেইনার। ময়লা সংগ্রহের ১০-১৫টি ভ্যান। এই ভ্যান থেকে কনটেইনারে ময়লা-আবর্জনা নামানো হচ্ছে। সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ময়লার কনটেইনার থাকায় মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। সংকুচিত সড়কের কারণে এখানে নিয়মিতই লাগে যানজট।

মিরপুরের রূপনগর সড়কের দুয়ারিপাড়া মোড় থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড শুরু। সড়কের এই অংশের দক্ষিণ পাশের ফুটপাতে বসেছে চোরাই কাঠের আড়ত। উত্তর পাশের ফুটপাতে কাঁচাবাজার। দুয়ারিপাড়া মোড় থেকে কাঁঠালতলা মোড় পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শতাধিক স্থায়ী ও কিছু অস্থায়ী দোকান চোখে পড়ে।

দেখা যায়, সড়কে গড়ে উঠেছে ভ্যান-রিকশা, সাইকেল ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী মেরামতের দোকান। লেপ-তোশক, শুঁটকি মাছ, মৌসুমি পণ্য, ফল, ডিম, ভাজাপোড়া, ছোলা-মুড়ি, চিড়া, চা, রকমারি পণ্য, সবজি, পান-সুপারি ও হালকা খাবার বিক্রির দোকান। কাঠের আড়তে আছে চেরাই কাঠ বিক্রির দোকান।

ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিন-রাত সারাক্ষণই মশার উত্পাতে তারা অতিষ্ঠ। নিয়মিত মশার ওষুধ দেওয়া হয় না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। ওয়ার্ডে গ্যাসের সমস্যা থাকায় অধিকাংশ সময় দিনের বেলা রান্না করা যায় না।

আরামবাগ আবাসিক এলাকার পাশ দিয়ে রূপনগর খাল বয়ে গেছে। খালটির ওপরে বাঁশ-টিন দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক ঘর। এসব ঘরের কারণে খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খালে জমেছে প্লাস্টিকের বোতল, গৃহস্থালি ময়লাসহ বারোয়ারি ময়লা।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজ্জব হোসেন বলেন, ওয়ার্ডের সড়কগুলোয় সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সড়কে কাজ চলছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ওয়ার্ডের সবগুলো সড়ক সংস্কার হবে। কাউন্সিলর বলেন, রূপনগর খালটি এলাকার বড় সমস্যা। এটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। খালে গড়ে ওঠা ঘরগুলো উচ্ছেদ করে পাড় দিয়ে হাঁটাপথ করে একে হাতিরঝিলের মতো করা যেতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

(আগামীকাল ঢাকা উত্তর সিটির ওয়ার্ড-৭)

ইত্তেফাক/নূহু