জঙ্গি দমনে শেখ হাসিনার প্রশংসায় সোনিয়া গান্ধী

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনা সরকারের দৃঢ় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। গতকাল রবিবার বিকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্কালে সোনিয়া গান্ধী বলেন, শক্ত হাতেই সন্ত্রাস দমন করা জরুরি।  এ সময় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সোনিয়া গান্ধী জানান, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারা একমত। দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কংগ্রেস সরকারের আমলেই এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন কংগ্রেস নেত্রী। বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাগেরহাট-১ আসনের সাংসদ শেখ হেলাল উদ্দিন, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।

সাক্ষাত্কালে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ তিনটি বই সোনিয়া গান্ধীকে উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে যেতে রাহুল গান্ধীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানান। শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বলেন, চলমান প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে পারলে ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।

খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে আজমীর শরীফে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন। গতকাল দিল্লি থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে জয়পুরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। জয়পুর থেকে হেলিকপ্টারে করে আজমির শরিফ যান তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে  মোনাজাত করেন।

শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যসহ সকাল ১১টায় মাজার প্রাঙ্গণে যান এবং ৩০ মিনিট অবস্থান করেন। মাজারের খাদেম জানান, ’তিনি তাঁর দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সু-সম্পর্ক কামনা করেন। শেখ হাসিনা মাজারে বিছিয়ে দেয়ার জন্য খাদেমের কাছে একটি চাদর দেন। মাজার কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে বুলন্দ দরজায় স্বাগত জানান।
ইত্তেফাক/নূহু